পাবনার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সভা : খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

শেয়ার করুন:

পাবনার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সভা :
খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

এ কে খান, পাবনা ব্যুরো :


পাবনা জেলার ১৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা’র নবম দিনে ‘আমার পাবনা, আমার ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় পাবনা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর স্বাধীনতা চত্বরে এ সভার আয়োজন করা হয়। হৃদয়ে পাবনা সংগঠনের সভাপতি আর কে আকাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাহতাব বিশ্বাস রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাবনা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলহাজ মাহতাব উদ্দিন বিশ্বাস।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাজিরগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম মাহবুব আলম এবং পাবনা বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আফজাল হোসেন রাজা। এ ছাড়া বক্তব্য দেন পাবনা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন সঞ্জু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মীর ফজলুল করিম বাচ্চু, কোল্ড স্টোর আইসক্রিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক, নারী উদ্যোক্তা সৈয়দা সোনিয়া খাতুন, নারী উদ্যোক্তা তামান্না তানজিন জান্নাতী ও সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে পাবনায় খেলাধুলার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রেও নতুন প্রজন্মের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।বক্তারা আরও বলেন, তরুণদের একটি অংশ ক্রমেই ঘরকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। হতাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন কনটেন্ট, হানি ট্র্যাপ, পাবজিসহ বিভিন্ন অনলাইন গেমে অতিরিক্ত আসক্তি এবং মাদকাসক্তি তরুণ সমাজের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যার নেতিবাচক প্রভাব ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে পড়ছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মকে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। তাঁদের মতে, বিভিন্ন শিক্ষা মূলক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এ ক্ষেত্রে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও ডিবেট ক্লাবের কার্যক্রম চালু রাখা এবং সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন তাঁরা। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, খাতা ও স্কুলব্যাগ বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, অসহায় ও দুস্থ নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আলোচনা সভায় পাবনার উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জেলার সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পথ তৈরি করবে।হৃদয়ে পাবনা ও পথ সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে গত ২২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর স্বাধীনতা চত্বরে ‘পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাবনা জেলার ১৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসবে স্থান পেয়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, পিঠাপুলি, তাঁতশিল্প ও মৃৎশিল্পের প্রদর্শনী। পাশাপাশি পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থানের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। উৎসবের অংশ হিসেবে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, চিকিৎসা, খেলাধুলা, শিক্ষা, মানবিক কর্মকাণ্ড ও সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ও কৃতী ব্যক্তিদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পেশায় কর্মরত শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, চিকিৎসক, কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে মিলনমেলা ও পুনর্মিলনীরও আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসব পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও মানবিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করবে।
শেয়ার করুন: