খেতুড়ীধামে তীর্থ উৎসবে ভক্তদের পাশে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম হীরক :
দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, আর্থিক সহায়তা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা
এ কে খান :
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী গৌরাঙ্গবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব তিথি মহোৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. সাইফুল ইসলাম হীরক। রাধামাধব বৈঙ্ষব সংঘ কর্তৃক আয়োজিত শুক্রবার ৩০ অক্টোবর হীরকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎসবে আগত ভক্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা, খাবার ও বিশুদ্ধ বোতলজাত পানি বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তিনি তীর্থ উৎসবে আগত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং বিশ্রামের সুবিধা নিশ্চিত করতে উৎসবস্থলে বিভিন্ন প্যান্ডেল নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাকর্মী ও দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উৎসব চলাকালে সাইফুল ইসলাম হীরক সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের সাথে পারস্পারিক কুশল বিনিময় ও তাদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁর এ উদ্যোগে উৎসবে আগত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যায়। সাইফুল ইসলাম হীরক বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের সেবা করা মানবিক দায়িত্বের অংশ। প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁদের খোঁজখবর নিতে ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে তিনি উৎসবস্থলে ছুটে এসেছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে তিনি আগত ভক্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

খেতুড়ী ধামের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সাইফুল ইসলাম হীরক বলেন, বৈষ্ণব ধর্মের ইতিহাসে খেতুড়ী ধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। ষোড়শ শতকে শ্রীশ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুরের উদ্যোগে এখানে ঐতিহাসিক খেতুড়ী মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই মহোৎসবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রধান পার্ষদ ও অনুসারীরা সমবেত হয়েছিলেন। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধারাকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইফুল ইসলাম হীরক আরো জানান, সাধারণত প্রতিবছর অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ৩ দিনব্যাপী এ মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পুণ্যার্থী হরিনাম সংকীর্তনে অংশ নিতে এখানে সমবেত হন। শুভ অধিবাস ও অখণ্ড হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। দিন-রাত পদাবলি কীর্তন ও নামসংকীর্তনে মুখর থাকে পুরো তীর্থস্থান। এ মহোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহাপ্রসাদ বিতরণ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা সারিবদ্ধভাবে বসে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কীর্তন ও ভক্তিমূলক আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ। উৎসবের শেষ দিনে দধি মঙ্গলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এ মহোৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনমেলার এক অনন্য উপলক্ষে পরিণত হয়।মেলা প্রাঙ্গণে বসে গ্রামীণ নানা পণ্য ও হস্তশিল্পের পসরা। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত-পুণ্যার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সামগ্রিকভাবে, খেতুড়ীধামের এ তীর্থ উৎসব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, মানবিক সেবা ও সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ উৎসবে আগত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম হীরক। তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ উৎসবে আগত ভক্তদের সেবা ও সহযোগিতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
