৪১ হিজরিতে মুয়াবিয়ার নির্দেশে আহলে বাইত’র ওপর অভিসম্পাত প্রদানের হুকুম কার্যকর করা হয়

৪১ হিজরিতে মুয়াবিয়ার নির্দেশে আহলে বাইত'র ওপর অভিসম্পাত প্রদানের হুকুম কার্যকর করা হয়
শেয়ার করুন:
৪১ হিজরিতে মুয়াবিয়ার নির্দেশে আহলে বাইত’র ওপর অভিসম্পাত প্রদানের হুকুম কার্যকর করা হয়
যাঁদের উপর দরুদ শরিফ না পাঠ করলে নামাজ কবুল হয় না।[আহযাব-৫৬], আল্লাহ্ তা’য়ালা যাঁদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরে রেখেছেন এবং যাঁদেরকে সম্পূর্ণ পূতঃপবিত্র ঘোষণা করেছেন।[আহযাব-৩৩], যাঁদের অনুসরণ, আনুগত্য ও প্রাণাধিক ভালবাসা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ তা’য়ালা ফরজ করেছেন।[শুরা-২৩] রাসূল (সাঃ)’র ইন্তেকালে পর তাঁর এই আহলে বাইত’র প্রথম সদস্য হযরত আলী (আঃ)’র সাথে কতইনা জালিমের মত ব্যবহার করা হয়েছে তার কিছুটা নমুনা এখন তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
৪১ হিজরিতে আমির মুয়াবিয়া যখন কোরআন পরিপন্থী আইন রাজতন্ত্র কায়েম করলো, তখন মুসলিম সাম্রাজ্যে ৭০ হাজারেরও অধিক মসজিদে জুম্মার খোৎবায় হযরত আলী (আঃ) ও রাসূল (সাঃ)’র পবিত্র আহলে বাইত (আঃ)’দের উপর অভিসম্পাত প্রদানের হুকুম কার্যকর করে। তার আদেশটি ছিল এরুপঃ
“আল্লাহ্’র কসম, কখনোও আলীকে অভিসম্পাত দেওয়া বন্ধ হবে না, যতদিন শিশুগণ যুবকে এবং যুবকগণ বৃদ্ধে পরিনত না হয়। সারা দুনিয়ায় আলীর ফজিলত বর্ণনাকারী আর কেউ থাকবে না।”
মুয়াবিয়া নিজে এবং তার গভর্নররা মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে, রাসূল (সাঃ)’র পবিত্র রওজা মোবারকের পার্শে দাঁড়িয়ে, রাসূল (সাঃ)’র প্রিয় আহলে বাইত’দের অভিসম্পাত দেওয়া হতো। হযর আলীর (আঃ)’র সন্তানগণ ও নিকটাত্মীয়গণ তা শুনতে বাধ্য হতেন, আর নীরবে অশ্রুপাত করতেন।
সহীহ্ মুসলিম ফাজায়েলে আলী অধ্যায়ে লেখা আছেঃ
মুয়াবিয়া তার সমস্ত প্রদেশের গভর্ণরদের উপর এ নির্দেশ জারি করে যেন, সকল মসজিদের খতীবগণ মিম্বরে দাঁড়িয়ে আলীর উপর অভিসম্পাত করাকে তাদের দায়িত্ব বলে মনে করে।
প্রায় ৯০ বৎসরেরও অধিক সময় ধরে মুসলিম জাহানের প্রতিটি মসজিদে আহলে বাইত (আঃ) ও আহলে বাইত’র প্রধান সদস্য হযরত আলী (আঃ) কে অভিসম্পাতের প্রথা এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল যে, যখন ওমর বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামল শুরু হলো, তখন তিনি এই জঘন্য পাপ ও বেঈমানী কর্মকান্ড রহিত করেন।
আর তখন রাসূল (সাঃ)’র আহলে বাইত (আঃ)’র বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠিরা চারদিকে হৈ চৈ করে বলতে লাগলোঃ
“ওমর বিন আব্দুল আজিজ, সুন্নাত তরক করে দিলেন! সুন্নাত তরক করে দিলেন!”
অতঃপর, ওমর বিন আব্দুল আজিজ জুমার খোৎবা থেকে মুয়াবিয়ার প্রতিষ্ঠিত অভিসম্পাতের অংশটি পরিবর্তন করে পবিত্র কোরআনের (সূরা : নাহল-৯০)’র এ আয়াতটি পাঠের আদেশ দেনঃ
إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاء ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ
الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরকে সুবিচার এবং সৌজন্যের নির্দেশ দেন আর নির্দেশ দেন, নিকট আত্মীয়দের দান করার আর বারণ করেন অশ্লীল ঘৃন্য কাজ ও সীমালঙ্ঘন করতে। তিনি তোমাদেরকে সদুপদেশ দেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।[নাহল-৯০]
আদৌ কি আমরা রাসূল (সাঃ)’র আহলে বাইত-গণের প্রাপ্য সন্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত আছি ?
নিন্মে সেই সূত্র গুলো উল্লেখ করছি, যেখানে স্পষ্টভাবে রয়েছে যে, হযরত আলী (আঃ) কে অভিসম্পাত করা হতো:
সূত্রঃ সহীহ্ মুসলিম-খঃ ৭ হাঃ ৬০৪১, ৬০৪৯ (ইঃ সেন্টার) / জামে আত তিরমিজী-খঃ৬ হাঃ ৩৬৬২ (ইঃ সেন্টার) / খিলাফতের ইতিহাস-পৃঃ ১৩৯ (ইঃ ফাঃ) / আরব জাতির ইতিহাস-পৃঃ ১২২, ১৬৮ (বাংলা একাডেমী) / তারিখে তাবারি-খঃ ৪ পৃঃ ১২২, ১৯০, ২০৭, খঃ ৫ পৃঃ ২৫৩ / ইমাম যাহাবী ইবনে ইবর-খঃ ১ পৃঃ ৪৮ / আল কামিল-খঃ ৩ পৃঃ ২০৩, ২৪২ / জামেউস সিরাত-পৃঃ ৩৬৬ (ইমাম ইবনে হাযম) / তারিখে ইসলাম-খঃ ২ পৃঃ ১৩০ (মাঃ শাহ্ মহিউদ্দিন নর্দভী) / ইবনে খালদুন-খঃ ৩ পৃঃ ১৩ / আল ইস্তিয়াব-খঃ ১ পৃঃ ১৩৫ / ইবনুল আসির-খঃ ৪ পৃঃ ১৫৪ / মুয়াদ্দাতুল কুরবা-পৃঃ ৪৮ / ইযাযাতুল খিফা-খঃ ২ পৃঃ ৫০, ৩০৬, ৫০৫, ৫০৮। From Facebook
শেয়ার করুন: