আনসার খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাৎ: অভিযুক্ত রায়হান, কোরবান ও নির্মল
মো. নজরুল ইসলাম খান
ক্রীড়া সম্পাদক, ঢাকা প্রেসক্লাব
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির অ্যাথলেটদের জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাহিনীর উপ-পরিচালক রায়হান ফকির এবং তায়কোয়ানডো কোচ মোঃ কোরবান আলী ও নির্মল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার সম্মানী এবং প্রশিক্ষণের দৈনিক ভাতা না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন আনসার বাহিনীর তায়কোয়ানডো, করাতে ও জুডোর একাধিক তারকা খেলোয়াড়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত বিভিন্ন তায়কোয়ানডো গেমসে পদক জয়ী খেলোয়াড়দের সম্মানী এবং সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে প্রশিক্ষণরত খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। বাহিনীর সাবেক ক্রীড়া শাখায় নিযুক্ত এবং বর্তমান উপ-পরিচালক রায়হান ফকিরের প্রত্যক্ষ মদদে কোচ কোরবান আলী ও নির্মল চৌধুরী এসব আর্থিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় নুরুদ্দিন হোসাইন তার সঙ্গে ঘটা জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রাপ্য টাকা আদায়ের জন্য তিনি বারবার রায়হান ফকিরকে এবং আনসার বাহিনীকে চিঠি দিলেও কোনো সমাধান পাননি। উল্টো তাকে প্রতারণার জালে ফেলা হয়।
নুরুদ্দিন বলেন, “একদিন রায়হান ফকির সাহেব আমাকে ফোন করে জানতে চান আমি সম্মানী পেয়েছি কি না। আমি না বলায় তিনি আমাকে তার অফিসে ডাকেন। কিন্তু ফোন রাখার মাত্র ১০ মিনিট পরেই কোচ কোরবান আলী ও নির্মল চৌধুরী আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে বলেন। তারা আমাকে নির্দেশ দেন কেউ ফোন করলে যেন বলি আমি সব টাকা বুঝে পেয়েছি।”
পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পদকের সম্মানী ভাতার ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক নুরুদ্দিনের নামে ইস্যু করা হলেও তিনি তা উত্তোলন করতে পারেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, কোচ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নুরুদ্দিনকে দিয়ে চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিজেরাই রূপালী ব্যাংক এর খিলগাঁও শাখা থেকে ৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর নুরুদ্দিনকে মাত্র ১ লক্ষ টাকা দিয়ে বাকি ৪ লক্ষ টাকা তারা নিজেরা ভাগাভাগি করে নেন।
একইভাবে বঞ্চিত হওয়ার তালিকায় রয়েছেন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় তাবাসুম, রোমা, নাহার, ইলিয়াসসহ আরও অনেকে। এছাড়া ২০২২ সালের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশ ভ্রমণের খরচ বাবদ জনপ্রতি ৫০০ ডলার করে দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় সেই টাকা হাতে পাননি।
দুর্নীতির এই জাল শুধু তায়কোয়ানডোতেই সীমাবদ্ধ নয়; জুডো ডিসিপ্লিনের অন্তরাসহ আরও অনেক খেলোয়াড়ও একইভাবে আর্থিক অনিয়মের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা এসব ক্রীড়াবিদদের প্রাপ্য টাকা আত্মসাৎ হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বর্তমান প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান ফকির ও কোচ কোরবান আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
