হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার নির্ধারিত যে রুটিনে বানিয়াচংয়ে জুড়ে লোডশেডিং হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। ঘোষিত রুটিনের বাইরেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হরদম লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও আধঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার কয়েক ঘণ্টা থাকছে না।
ফলে এ গরমে মানুষ যেমন ঘরে থাকতে পারছে না তেমনি ব্যবসা বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। প্রভাব পড়েছে জনজীবনসহ সর্বত্র।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অনেকেই জানান। শিডিউলে যেখানে দিনে রাতে ১০ ঘন্টা লোডশেডিং করার কথা সেখানে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা। কোনো কোনো এলাকায় একবারের পরিবর্তে লোডশেডিং হচ্ছে একাধিকবার।
এক ঘন্টার জায়গায় বিদ্যুৎ থাকছে না ২ থেকে ৩ ঘন্টাও। এতে তীব্র ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। উপজেলা সদরের এজাজ আহমেদ রনি বলেন,পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন এলাকার তালিকায় সারাদিন এক ঘন্টা করে একবার কিংবা সর্বোচ্চ দুইবার লোডশেডিংয়ের কথা বলে হয়েছে। অথচ মান হচ্ছে না কোনো নিয়ম। যা সাধারণ হিসেবে ৬০ মিনিটে ১ ঘন্টা হলেও সেটা যেন ৯০ মিনিটে ঘন্টা পূর্ণ হচ্ছে।
এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নারী,বৃদ্ধ ও শিশুরা পড়েছেন অসহনীয় দুর্ভোগে। এছাড়া সন্ধ্যার সাথে সাথে লোডশেডিং হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপর এর প্রভাব পড়ছে। ফলে বই থেকে মুখ ফিরিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ড দিচ্ছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা।
লোডশেডিংয়ের এই চরম বিপর্যয়ে অস্বস্থিতে রয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। রাকিব আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী জানান,বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে নির্ধারিত সুচি প্রকাশ করলেও মানা হয়না এতটুকু।
সরকারের নির্দেশিত সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় থাকে লোডশেডিং। কলেজ শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,দিনের কখন যে বিদ্যুৎ আসে আর কখন যে যায় তার কোন হিসেব নেই। শুধু মাত্র নামের জন্য কিংবা জনগনকে দেখানোর জন্য একটা সুচি প্রকাশ করেছে মাত্র। বাস্তবতার সাথে কোন মিল নাই।
কাপড় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান,শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতের। বিদ্যুৎ গেলে মনে হয় আর আসার খবর নাই। এতো গরমের মধ্যে দিন ও রাতে সমানতালে লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ব্যবসাও ঠিক মতে করা যাচ্ছেনা।
পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সবুজ মিয়া জানান,এই লোডশেডিংয়ের সময়ও বিদ্যুতের বিল বেশি আসছে। গত মাসের চেয়ে এই মাসে ডাবল বিল এসেছে আমার বাসার। দেব রিংকু নামের আরেকজন গ্রাহক একই অভিযোগ করে জানান,গত মাসে ৪২২ টাকর বিল এসেছে আর চলতি মাসে এসেছে ৫২০টাকা।
এদিকে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১১ কেভি ফিডার সমুহে লোডশেডিংয়ে সম্ভাব্য সময়সুচী প্রকাশ করে বানিয়াচং জোনাল অফিস।
পুরো উপজেলাকে তারা ৮টি ফিডারে ভাগ করে লোডশেডিংয়ের শিডিউল তৈরী করা হয়। সেখানে দিনে রাতে ১০ঘন্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং হবে মর্মে জানা যায়। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা লোডশেডিং।
এই বিষয়ে বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান,উপজেলায় আমাদের চাহিদা রয়েছে ১৪ মেগাওয়াট। কিন্তু এই ক্রাইসিস মুহুর্তে আমরা পাচ্ছি ৫ মেগাওয়াট এর মতো। তবে মাঝেমধ্যে কিছুটা হেরফের হয়।
বিস্তারিত জানতে শায়েস্তাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো: মোতাহার হোসেন জানান,পুরো জেলায় আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে পিডিবির ১১৬ মেগাওয়াট আর পল্লীর চাহিদা রয়েছে ১৫০ মেগাওয়াট।
দিনের বেলা আমাদের চাহিদা রয়েছে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের আর আমরা পাচ্ছি ৭০ মেগাওয়াট । রাতের বেলায় ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি আমরা। যেখানে পাওয়ার কথা ১০০ মেগাওয়াটের উপরে। তবে প্রতিদিন এটা উঠানামা করে। সঠিক কোন হিসাব দেয়া যায় না।
