দাবি ও আনন্দের মেলবন্ধন: কাশিনাথপুরে ‘প্রয়াস’-এর বার্ষিক বনভোজন ও রেললাইনের দাবিতে মানববন্ধন

দাবি ও আনন্দের মেলবন্ধন: কাশিনাথপুরে ‘প্রয়াস’-এর বার্ষিক বনভোজন ও রেললাইনের দাবিতে মানববন্ধন
শেয়ার করুন:

দাবি ও আনন্দের মেলবন্ধন: কাশিনাথপুরে ‘প্রয়াস’-এর বার্ষিক বনভোজন ও রেললাইনের দাবিতে মানববন্ধন

ফেরদৌস তপন, নিজস্ব প্রতিবেদক, কাশিনাথপুর:

আনন্দঘন পরিবেশ ও অধিকার আদায়ের এক ব্যতিক্রমী মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বৃহত্তর কাশীনাথপুর অঞ্চলের একমাত্র শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রয়াস পাঠাগার’ ও ‘প্রয়াস সাংস্কৃতিক সংঘ’-এর বার্ষিক বনভোজন। তবে এবারের বনভোজনটি কেবল আমোদ-প্রমোদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর সাথে যুক্ত হয়েছিল কাশিনাথপুর থেকে উল্লাপাড়া পর্যন্ত রেল লাইনের দাবিতে এক জোরালো সামাজিক আন্দোলন ও মানববন্ধন। গত ৬/১১/২০২৬ শুক্রবার কাশিনাথপুর রেল স্টেশন থেকে সংগঠনের মোট ৭৫ জন সদস্য নিয়ে এই বিশেষ রাজশাহী রেল ভ্রমণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিটি শুরু হয়। রেললাইনের দাবিতে বিভিন্ন স্টেশনে মানববন্ধন কাশিনাথপুর থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে ট্রেনটি যেসব স্টেশনে যাত্রাাবিরতি করে, তার প্রায় প্রতিটিতেই সংগঠনের সদস্যরা কাশিনাথপুর থেকে উল্লাপাড়া পর্যন্ত রেল লাইনের দাবিতে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন। এই মানববন্ধনে বক্তারা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই রেললাইনের অপরিহার্যতার কথা তুলে ধরেন। মানববন্ধন ও সমাবেশগুলোতে বক্তব্য রাখেন প্রয়াস সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মফিদুল হক শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান এবং বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মানিকসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি মফিদুল হক শাহীন বলেন, “কাশিনাথপুর থেকে উল্লাপাড়া পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হলে এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এলাকার মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক উপকৃত হবেন।” দাবির স্বপক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, “আমরা এই ন্যায্য দাবি নিয়ে অনেক আগে থেকেই রাজপথে আছি। কাশিনাথপুর-উল্লাপাড়া রেললাইন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না, আন্দোলন চালিয়ে যাব।” আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শ্রমিক নেতা মানিক ভাই তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই অঞ্চলের শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এই রেললাইন খুবই জরুরি। আমরা এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সাথে অতীতেও ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।” আনন্দ ও শিক্ষণীয় রাজশাহী ভ্রমণ দাবি আদায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি বনভোজনের মূল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কোনো কমতি ছিল না। রাজশাহী পৌঁছানোর পর সংগঠনের ৭৫ জন সদস্য এক আনন্দঘন দিন অতিবাহিত করেন। দিনব্যাপী এই ভ্রমণে সদস্যরা রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী শিশু পার্ক, বিভাগীয় বইমেলা এবং শহরের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও শিক্ষণীয় স্থান পরিদর্শন তরুণ ও প্রবীণ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়াস পাঠাগার ও প্রয়াস সাংস্কৃতিক সংঘের এমন অধিকার সচেতন ও সৃজনশীল উদ্যোগ স্থানীয় সুধীমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। আন্দোলন ও আনন্দের এই চমৎকার সমন্বয় আগামী দিনেও এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ে প্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন: