অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান মহাপরিচালকের

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান মহাপরিচালকের
শেয়ার করুন:

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান মহাপরিচালকের :
দেশের পাঁচ হাজারের বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৫৫ হাজার আনসার সদস্য

এ কে খান,পিভিএম :

সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতি, শিল্পকারখানা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কেপিআইয়ের ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের দক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। গাজীপুরের সফিপুর বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ‘অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি নবীন আনসার সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও কেপিআইয়ের নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
দায়িত্ব পালনকালে সরকারি জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকারকারী ও আহত আনসার সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছেন।তাদের অবদান বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান, তাঁদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ সৃষ্টি এবং রেশন ব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বৃদ্ধিসহ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাঁদের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত হবে। সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সদস্যদের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে।প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ,অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নবীন সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ থেকে তাঁরা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত সদস্য। এই পরিচয় তাঁদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলার কাজী মোঃ আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম হন নোয়াখালী জেলার মোঃ ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ি জেলার মোঃ সাবিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজের পর তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি বিশেষ মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়া শেষে মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবিলায়ও এ সক্ষমতার প্রতিফলন দেখা গেছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) মোঃ সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আগত প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তারা এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মহাপরিচালক সফল প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, প্রশিক্ষকমণ্ডলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী নবীন সদস্যদের কর্মজীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করেন।

শেয়ার করুন: