
প্রবীণ রাজনীতিক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর নেই। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রবিবার ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একান্ত সহকারী কামরুল ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
বৃহস্পতিবার অসুস্থবোধ করায় শুক্রবার সকালে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার ফুসফুসের সংক্রমণ হয়েছে বলে শনাক্ত হয়। শনিবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম এবং দশম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী হন। তবে তার সহকারীর অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তিনি পদত্যাগ করলেও তা গ্রহণ না করে সেই সময়ে তাকে মন্ত্রী হিসাবে রাখেন শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের জানান, সকাল নয়টায় তার মরদেহ ঢাকার বাসভবন জিগাতলায় নেওয়া হবে। বেলা ১২টায় মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। বিকেল তিনটায় মরদেহ নেওয়া হবে সংসদ ভবনে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এর পর সংসদে অবিচুয়ারি রেফারেন্স হবে। আগামীকাল সোমবার সকাল নয়টায় মরদেহ যাবে সিলেটে। সকাল ১০টায় সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা ১১টায় মরদেহ যাবে সুনামগঞ্জ। এরপর সেখান থেকে মরদেহ তার নির্বাচিত এলাকা দিরাই ও শাল্লাতে নেওয়া হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শুধু একজন রাজনীতিকই ছিলেন না, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। সংসদীয় রাজনীতিতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অতুলনীয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে জাতি হারালো একজন দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হারালো একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, আর আমরা হারালাম সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের একজন অগ্রসৈনিককে।
