নিজস্ব প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার মাছখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী নানাভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বলে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অসদাচরণের মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ ওই বিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষক। ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ৫০ বার কান ধওর উঠবস করানোর দায়ে এক ছাত্রীর অভিভাবক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগকারীকে নানাভাবে ইন্ধন যোগান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের তদন্তও হয়েছে। তদন্তে শতভাগ দোষী প্রমাণিত না হলেও অফিসিয়ালভাবে গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আইয়ুব আলীর বদলীর আদেশ জারী করেন। তবে প্রধান শিক্ষক সার্জারী করা হার্টের রোগী হওয়ায় বিভাগীয় দপ্তর বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক উক্ত বিদ্যালয়ে নিয়মিত স্কুল পরিচালনা করে আসছেন। এতে সভাপতির অসৎ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায়। যা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রধান শিক্ষক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলে আসা দেরি, পাঠদানের ফাঁকি দেবার বিষয়ে কড়াকড়ি নিয়ম আরোপের কারণেই দুএকজনের বিরাগভাজন হন প্রধান শিক্ষক। তবে তিনি শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার জন্য শিক্ষকদের নিয়মানুবর্তিতার চাপ দিতেন। কারো সাথে তার কোন ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিলো বা এখনও নাই।
উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নামে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর কিছু তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে যদি উপজেলা শিক্ষা অফিসে কোন রকম অভিযোগ জমা হয়, সেই বিষয়টাকে বড় করে তদন্তরের নামে পকেট ভারি করেন। এ ছাড়াও বেড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ময়ের অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, ষড়যন্ত্র করে আমাকে বদলী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি শিক্ষকদের স্কুল ও পাঠদান ফাঁকি দেওয়ার প্রতিবাদ করার জন্য দুএকজনের কাছে আমি ভালো না। আমি অসুস্থ বিধায় মন্ত্রণালয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমতি নিয়ে পূর্বের কর্মস্থলেই কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে করা সংবাদের তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই।
