রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে আনসার-ভিডিপির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

শেয়ার করুন:

রংপুর-লালমনিরহাট জাতীয় মহাসড়কের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত ‘কলাবাড়ি মোড়’। প্রায় ১৩৫ ডিগ্রি কোণে বেঁকে যাওয়া এই বিপজ্জনক বাঁকে দীর্ঘদিনের জমাটবদ্ধ ঘন জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের কারণে প্রতিদিন ঘটছিল ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ঝরে গেছে অনেক মূল্যবান প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনা রোধে এবং সড়কটিকে নিরাপদ করতে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর আনসার ও ভিডিপির সার্বিক উদ্যোগে কলাবাড়ি মোড় ও এর আশপাশের বিপজ্জনক ঝোপঝাড় কেটে দৃষ্টিনিয়ন্ত্রণ বাধা বা ‘ব্লাইন্ড স্পট’ পুরোপুরি দূর করা হয়। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. নাসিম হাসানের নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। এতে উপজেলা প্রশিক্ষক মো. নুরুজ্জামান শাহিন এবং উপজেলা প্রশিক্ষিকা জান্নাত আরার সক্রিয় তত্ত্বাবধানে বাহিনীর ১০০ জন ভাতাভোগী ও ভিডিপি সদস্য অংশ নেন। তারা অক্লান্ত পরিশ্রমে মহাসড়কের বাঁকটির চারপাশের ঘন জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার করে যাতায়াত ব্যবস্থা দৃশ্যমান ও নিরাপদ করে তোলেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কলাবাড়ি মোড়ের অস্বাভাবিক বাঁক এবং জঙ্গলের আড়ালের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী যানবাহন চালকদের চোখে পড়ত না। ফলে মোড়টি চালক ও পথচারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিল। বহু পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। দিনে দিনে স্থানটি একপ্রকার ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছিল। ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করার পর এখন চালকেরা অনেক দূর থেকেই বিপরীতমুখী গাড়ি স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন। ফলে নিরাপদে এবং গতি নিয়ন্ত্রণ করে মোড় অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে। এই উদ্যোগে ওই রুটে চলাচলকারী চালক, যাত্রী ও স্থানীয় পথচারীদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সময়োপযোগী সামাজিক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মহাসড়কের দুর্ঘটনা কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

শেয়ার করুন: