বেড়ায় দুই মাস যাবত সিএনজি স্টেশন বন্ধ

শেয়ার করুন:

cng

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : বেড়ায় দুই মাস ধরে সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় ১০/১২ ঘণ্টা সিরিয়ালে থেকে শাহজাদপুর ও পাবনা থেকে গ্যাস নিতে হচ্ছে। এতে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের। ফলে একদিকে আর্থিক ক্ষতি অন্যদিকে সীমাহীন ভোগান্তির কারণে অনেকেই নিয়মিত সিএনজি নিয়ে বের হতে পারছে না। এদিকে ভোগান্তির অজুহাতে বেড়া-কাশীনাথপুরসহ কয়েকটি রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার কারণে প্রতিদিন যাত্রীদের সাথে সিএনজি চালকদের বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেড়া উপজেলায় প্রায় পাঁচশতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিক্সা রয়েছে। বেড়া থেকে কাশীনাথপুর, কাশীনাথপুর থেকে কাজিরহাট, নাজিরগঞ্জ, নগরবাড়ি রুটে সিএনজি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন। বাসের থেকে ভাড়ার ব্যবধান ছিল সামান্য বেশি। স্বাচ্ছন্দে চলাচলের সুবিধার জন্য সামান্য ভাড়া বেশি দিয়েও অনেকেই সিএনজিতে চলাচল করতো। বেড়া ছাড়াও কাশীনাথপুর, নগরবাড়ি, কাজিরহাট, আমিনপুর, সাঁথিয়া, আতাইকুলা, সুজানগর, নাজিরগঞ্জ থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি বেড়া সিএন্ডবি বাস স্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত বন্ধু সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিত। কিন্তু প্রায় দু’মাস আগে সিএনজি স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সিএনজি মালিক ও চালকসহ যাত্রীসাধারণ।

স্টেশন বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে কর্মরত একজন কর্মচারী স্টেশনটির ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। মোবাইল ফোনে একাধিকবার ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সিএনজি চালক জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুই মাস পূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করে স্টেশনটি সিলগালা করে দেয়।
শরিফুল ইসলাম নামের এক সিএনজি চালক বলেন, ‘গ্যাস নিতে এখন তাদের হয় পাবনায় নয় শাহজাদপুরে যেতে হচ্ছে। এক সাথে চাপ পড়ায় গ্যাস নিতে দীর্ঘ লাইনে ৬/৭ ঘণ্টাও সময় লাগছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল হেরফের করা হয়। এসব কারণে আগে যেখানে বেড়া থেকে কাশীনাথপুর যেতে ১৫ টাকা লাগত, সেখানে এখন ২০ টাকা দিতে হচ্ছে।’
সিএনজি চালক সুজন মোল্লা বলেন, ‘একদিন গ্যাস নিয়ে পরেরদিন চালাই। আবার একদিন বন্ধ থাকে। তাই ভাড়া একটুবেশি নিতে হয়।’
বেড়া সিএনজি চালক সমবায় সমিতির সভাপতি রুহুল আমীন বলেন, ‘হঠাৎ করে সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় আমাদেরদুর্ভোগের শেষ নেই। যাত্রীদের সাথে প্রতিদিন ঝগড়াঝাটি করতে আর ভাল লাগে না।’

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *