বগুড়ায় গাকের উদ্যোগে জব ফেয়ার উদ্বোধন, তাৎক্ষণিক চাকরি পেলেন ১৪৮ জন
এ কে খান :
“ছোট উদ্যোগে মানব সক্ষমতার বিকাশ” স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE) প্রকল্পের আওতায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ‘জব ফেয়ার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৫ জুন বগুড়া শহরের বনানী এলাকায় গাক টাওয়ার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ জব ফেয়ারের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। জব ফেয়ার এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বগুড়ার নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, বর্তমান সময়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জব ফেয়ার যুবসমাজকে কর্মমুখী করে তুলতে এবং চাকুরি প্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি যুবকদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব। তরুণদের আত্ম বিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার আলমগীর হোসেন, ক্যাপস্টোন ফেলো-এনডিসি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

RAISE প্রকল্পের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ও কর্মপ্রত্যাশী জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। তিনি জানান, এবারের জব ফেয়ারে দেশের ২০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। চাকুরি প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৬৫০টি জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ১৪৮ জনকে চাকুরির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।অন্যদের বাছাই কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় অংশ গ্রহণকারীদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি চরাঞ্চলের ৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষিযন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়, যা তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জব ফেয়ারে অংশ গ্রহণকারী চাকুরি প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং সিভি রিভিউ সেবার সুযোগ পান। এতে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে যুবস মাজকে কর্মমুখী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও জব ফেয়ার কার্যকর অবদান রাখবে।
