অর্থাভাবে থেমে যায়নি মাধবীর স্বপ্ন: বিএসসি ইন নার্সিংয়ে স্কলারশিপ, পাশে দুই মানবতাবাদী

শেয়ার করুন:

আলাউল হোসেন, কাশিনাথপুর: দারিদ্র্য কখনো মেধাকে হারাতে দেয় না— যদি পাশে দাঁড়ান কিছু মানবিক মানুষ। সেই সত্যেরই অনন্য উদাহরণ হরিজন সম্প্রদায়ের বাঁশফোঁড় গোত্রের মেয়ে মাধবী। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সে এখন ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত স্বনামধন্য ট্রমা নার্সিং কলেজে চার বছর মেয়াদি পেশাগত স্নাতক কোর্স বিএসসি ইন নার্সিং-এ অধ্যয়ন করছে।

মাধবীর এই নতুন যাত্রার পেছনে রয়েছেন পাবনার কাশিনাথপুরের কৃতি সন্তান, দ্য স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ-এর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইমরুল কায়েস লিটন। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রমা নার্সিং কলেজে মাধবীর চার বছরের সম্পূর্ণ কোর্স ফি মওকুফ করে ভর্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ৬ মে থেকে তার নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়েছে।

তবে মাধবীর সংগ্রামের গল্প আরও দীর্ঘ। শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত তার পুরো শিক্ষাজীবনের ব্যয়ভার বহন করেছেন কাশিনাথপুরের মানবিক চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম হুসাইন। তাঁর অকৃত্রিম স্নেহ, নিরলস ত্যাগ ও নীরব পৃষ্ঠপোষকতায় মাধবী কখনো পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়েনি। একজন চিকিৎসক হয়েও তিনি শুধু রোগের চিকিৎসাই করেননি, মানুষের জীবন গড়ার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সমাজে এমন মানুষই মানবতার প্রকৃত আলোকবর্তিকা।

অন্যদিকে ইমরুল কায়েস লিটনের মহৎ উদ্যোগ মাধবীর উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সুগম করেছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও তিনি দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানবসেবাকে জীবনের আদর্শে পরিণত করেছেন। মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানোর তাঁর এই দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাধবীর গল্প ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর এখনো অনেকেই তার বর্তমান অবস্থার খোঁজ জানতে চান এই প্রতিবেদকের কাছে। সেই আগ্রহ থেকেই জানানো যাচ্ছে— মাধবী বর্তমানে ঢাকার শ্যামলীতে ট্রমা নার্সিং কলেজে নিয়মিত পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে একজন দক্ষ নার্স হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন লালন করছে।

ইমরুল কায়েস লিটন এবিসিবার্তাকে বলেন, “ট্রমা সবসময় মানবতার সেবায় নিয়োজিত। অর্থাভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে, সেদিকে সবসময় আমাদের নজর আছে। যার স্বপ্ন আছে, তার স্বপ্ন পূরণে আমরা সব সময় পাশে থাকতে চাই।”

ডা. শামীম হুসাইন বলেন, “ইমরুল কায়েস লিটন অসাধারণ মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। এমন মানবিক মানুষের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি। সমাজে যদি আরও অনেক মানুষ এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে কোনো মেধাবী সন্তানই অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না।”

মাধবীর গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি মানবতার জয়গান। এটি প্রমাণ করে, একজন মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা একটি জীবনের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ডা. শামীম হুসাইন ও ইমরুল কায়েস লিটনের মতো মানবিক মানুষদের হাত ধরেই সমাজে আশার আলো জ্বলে ওঠে, নতুন স্বপ্নের জন্ম হয়।

শেয়ার করুন: