বগুড়ায় গাক’র বিশ্ব দুগ্ধদিবস উদযাপন : নারী খামারিদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
এ কে খান :
বগুড়ায় বিশ্ব দুগ্ধদিবস উপলক্ষে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় “দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা” শীর্ষক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর বাস্তবায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার)-এর আওতায় বুধবার ১০ জুন শেরপুর মহিপুর কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রী, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং গাকের কর্মকর্তারা অংশ গ্রহণ করেন। কর্মসূচির শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে দুগ্ধ খাতের উন্নয়ন, নিরাপদ দুধ উৎপাদন এবং নারী খামারিদের অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরপুর প্রাণিসম্পদ অফিস ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে নারী খামারিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক পশুপালন ব্যবস্থাপনা এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে দুধ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং খামারিরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর মহিপুর কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুন নূর। তিনি বলেন, নারীরা আজ শুধু পরিবার পরিচালনায় নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গাকের প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান এবং মৎস্য কর্মকর্তা মো.রবিউল ইসলাম। বক্তারা দুগ্ধ খাতের সম্ভাবনা, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, প্রাণি সম্পদের স্বাস্থ্যসেবা ও নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি প্রাণবন্ত কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, নারী খামারিদের উৎসাহিত করা, নিরাপদ ও টেকসই দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং দেশের দুগ্ধ শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
