এক জীবনের সুর : ৫৭ বছর ধরে রেডিও যার সঙ্গী

এক জীবনের সুর : ৫৭ বছর ধরে রেডিও যার সঙ্গী
শেয়ার করুন:

এক জীবনের সুর:৫ ৭ বছর ধরে রেডিও যার সঙ্গী

  পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার রতনগঞ্জ হাই স্কুলের মাঠের এক কোণে দাঁড়ালে এক অদ্ভুত সুর কানে আসে। হাজারো শোরগোলের মাঝেও সেই চেনা আওয়াজটি আলাদা করা যায়। এটি কোনো আধুনিক স্মার্টফোন বা ব্লুটুথ স্পিকারের শব্দ নয়; এটি হলো বিগত ৫৭-৫৮ বছর ধরে একটানা বেজে চলা এক অতি পুরোনো জাপানি রেডিওর সুর। আর এই সুরের পেছনে জড়িয়ে আছে রতনগঞ্জ গ্রামেরই ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের জীবনগল্প, যাঁর নাম আব্দুল কাদের।বেতার তরঙ্গে বাঁধা এক জীবনবয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন আব্দুল কাদের। জীবনের ৭৫টি বসন্ত পার করে আজ তিনি বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে। পেশায় তিনি একজন অতি সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতা। রতনগঞ্জ হাই স্কুল প্রাঙ্গণের পাশে তাঁর ছোট্ট একটি দোকান। সারাদিন ধরে তিনি মুড়ি মাখেন আর তাঁর একমাত্র বিশ্বস্ত সঙ্গী—সেই পুরোনো জাপানি রেডিওটি টেবিলে বসে অবিরাম গান গেয়ে যায় বা খবর শুনিয়ে যায়। দীর্ঘ এই ৫৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে আব্দুল কাদের রেডিও ছাড়া অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে কখনো গান শোনেননি। টেলিভিশন, সিডি প্লেয়ার, কিংবা হালের মেমোরি কার্ড ও ইউটিউবের যুগ এলেও আব্দুল কাদেরের দুনিয়া আটকে আছে সেই বেতার তরঙ্গের অ্যানালগ যুগেই।জাপানি প্রযুক্তির এক অবিশ্বাস্য স্মারকআজ থেকে প্রায় পৌনে এক শতাব্দী আগে কেনা এই রেডিওটি কেবল একটি যন্ত্র নয়, বরং সময়ের এক জীবন্ত সাক্ষী। আব্দুল কাদের জানান, দীর্ঘ ৫৭ বছরের পথচলায় রেডিওটি মাত্র দুই থেকে তিনবার মেকারের কাছে নিয়ে যেতে হয়েছে। আধুনিক যুগে যেখানে যেকোনো ইলেকট্রনিক্স পণ্য দু-চার বছরেই নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে এই জাপানি রেডিওটি আজও স্পষ্ট আওয়াজে বেজে চলেছে। কোনো কোনো দিন রেডিওর নব (Knob) ঘুরিয়ে যখন তিনি পুরোনো দিনের গান চালু করেন, তখন মনে হয় যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে।সন্তানদের স্বাবলম্বিতা ও একাকী লড়াই। আব্দুল কাদেরের ছেলেমেয়ে আছে। তারা এখন বড় হয়েছে, নিজেদের মতো করে সংসার করছে। কিন্তু তিনি একাই ছুটে চলেছেন তার জীবন সঙ্গী নিয়েই
শেয়ার করুন: