মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কিছুদিন আগে বলেন, সাইবার হামলার মাধ্যমে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিততে সাহায্য করে মস্কো। এই উদ্দেশ্যেই তারা ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও তাঁর নির্বাচনী দপ্তরের ডেটাবেইসে হামলা চালায়। সিআইএ ও এফবিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ওবামা রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন বৃহস্পতিবার। এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে যুক্তরােষ্ট্র কর্মরত ৩৫ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার এবং ম্যারিল্যান্ড ও নিউইয়র্কে রুশদের পরিচালিত দুটি গোয়েন্দা কার্যালয় বন্ধ করা। রুশ কূটনীতিকদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জবাবে মস্কো পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ৩১ জন মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে—রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর ওয়েবসাইটে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্পষ্ট করে না বললেও পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘নতুন করে’ রুশ-মার্কিন সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করতেই পুতিনের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহল।
পুতিন তাঁর ওয়েবসাইটে বলেন, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মস্কোর কাছে এক দ্বীপে মার্কিন শিশুদের ব্যবহৃত একটি বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ করার সুপারিশ করলেও তিনি চান না শিশুরা আনন্দ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হোক। উপরন্তু তিনি রাশিয়ায় কর্মরত সব কূটনীতিক ও তাঁদের সন্তানদের ক্রেমলিনে রুশ পঞ্জিকা অনুসারে বড়দিন ও নববর্ষ উদ্যাপনের আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা মস্কো বিনা চ্যলেঞ্জে যেতে দিতে পারে না। তিনি বলেন, ‘কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সমানুপাতিক আচরণের ভিত্তিতে নির্মিত’।
মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার লক্ষ্যে রুশ কর্তৃপক্ষ সাইবার গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োজিত হয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ হওয়ার পর গত এক মাস মস্কোর বিরুদ্ধে কী পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, হোয়াইট হাউসে সে প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক চলেছে। একাধিক রিপাবলিকান সিনেটরও এ ব্যাপারে শুনানি ও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন। বৃহস্পতিবার মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণার সময় স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, রুশ কর্তৃপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে ও প্রকাশ্যে বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও তারা সাইবার আক্রমণের পথ পরিহার করেনি। ফলে বাধ্য হয়েই নিজ স্বার্থ রক্ষার খাতিরে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করেই ওয়াশিংটনকে প্রয়োজনীয় ও সমানুপাতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য গোড়া থেকেই বলে আসছেন, তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সত্যি বলে মনে করেন না। তাঁর বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই ওবামা প্রশাসন এসব অভিযোগ তুলেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করার পর ট্রাম্প তাঁর সুর কিঞ্চিৎ নরম করে এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘এখন সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তাঁর এ কথার অর্থ পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে রুশ-মার্কিন সম্পর্ক নতুন ভিত্তিতে নির্মাণেই তিনি বেশি আগ্রহী। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ও পরে ট্রাম্প পুতিনের প্রশংসা করে বিভিন্ন মন্তব্য ছাড়াও মস্কোর সঙ্গে একযোগে আইএস নির্মূলে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
পুতিন নিজের মুখে না বললেও রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো রাখঢাক ছাড়াই বলেছে, সে দেশের কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার নিজের। একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যারা এই সিদ্ধান্ত নিল, তারা পরাজিতদের দলে ও ছোট মনের। আজ মার্কিন জনগণ তাদের নিজেদের প্রেসিডেন্টের হাতেই লাঞ্ছিত হলো।
