সিরাজগঞ্জের ছেলে রবিন খুদা ভারতে ২ লাখ কোটি রুপি ব্যায়ে মেগা হাব গড়ে তুলছেন

সিরাজগঞ্জের ছেলে রবিন খুদা ভারতে ২ লাখ কোটি রুপি ব্যায়ে মেগা হাব গড়ে তুলছেন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের ছেলে রবিন খুদা ভারতে ২ লাখ কোটি রুপি ব্যায়ে মেগা হাব গড়ে তুলছেন
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে  ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা মানুষটির নাম রবিন খুদা। জন্মেছেন ঢাকায় । শেরেবাংলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও হারম্যান মেইনার কলেজে পড়াশোনা শেষ করে , প্রযুক্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ” ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি” তে পড়াশোনা শেষ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেই উচ্চশিক্ষার জন্য রবিন খুদা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।
পেশাগত জীবনে কম্পিউটার ও ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করছেন রবিন খুদা। বিশ্ব বিখ্যাত সিংটেল , ফুজিৎসু ও পাইপ নেটওয়ার্ক এর সিএফও এবং পরবর্তীতে নেক্টডিসির সিএফও হিসেবে কাজ করেন। ধীরে ধীরে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন এশিয়া – প্যাসিফিক অঞ্চলের বৃহৎ ডেটা সেন্টার ” এয়ারট্রাঙ্ক” ।বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, জাপান , হংকং , মালয়েশিয়া , সৌদিআরব ও সিঙ্গাপুরের মত দেশে তার এই ডেটা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন তিনি।আর বাংলাদেশে মেয়েদের বেশি পড়াশোনা করা উচিত নয়!
নিজের পিতা ও মাতাকেও তিনি বাংলাদেশে না রেখে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গেছেন। , সেখানে রবিন খুদা একাই বাংলাদেশের মোট রিজার্ভের চেয়েও বেশি অর্থ ভারতে বিনিয়োগ করছেন। বাংলাদেশের রবিন খুদা ২০৩০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ৩৮তম ধনী  ভারতজুড়ে প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট (এড) ক্ষমতাসম্পন্ন হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার গড়ে তুলবেন।ভারতে তিন লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ করছেন এআই ও ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের জন্য। বাংলাদেশের  জন্য এক টাকা খরচ করাও যে সেই টাকাটা জলে ফেলে দেওয়া তা বুঝতে পারার জন্য তিনি অবশ্যই একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য।
 সংবাদটি ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী রবিন খুদা নামক একজন অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিলিয়নিয়ার ভারতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবেন।
বুঝতে পারছেন ৩০ বিলিয়ন ডলার কত টাকা? বাংলাদেশে প্রতিবছর বিদেশ থেকে ফরেন রেমিটেন্স পায় এই অর্থ সেই পরিমান। বর্তমানে বাংলাদেশের কাছেও এই পরিমাণ রিজার্ভ ফান্ড নেই! প্রায় এই পরিমান অর্থের সংকটে শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া হয়েছেল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আইএমএফের কাছে মাত্র ৪ বিলিয়ন ডলার লোন চেয়েছে তারা এখনো কিছু জানায়নি। আর দিলে দেবে দুনিয়ার শর্ত, সাথে থাকবে উঁচু সূদ।
রবিন খুদা ঢাকায় জন্মগ্রহণ করলেও তার বাপ-দাদার বাড়ি হচ্ছে সিরাজগঞ্জে। রাজধানীর শেরেবাংলা হাই স্কুলে ও হারম্যান মেইনার কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং সিডনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে হিসাববিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। সেখানেই প্রযুক্তি ও ডেটা অবকাঠামো খাতে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তার স্টার্ট-আপ প্রযুক্তি সংস্থা এয়ারট্রাঙ্ককে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপ ২৪ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করে, যা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ঘটনা। ২০২৪ সালেই এয়ারট্রাংঙ্কের মূল্যামান কয়েক শত বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার কোম্পানি এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ধনীদের তালিকায় স্থান পায় এই বাংলাদেশি বংদ্ভুদ রবিন খুদার নাম।
রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্ক ভারতে ৫ গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ে তুলবে। এই বিনিয়োগ ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৫ই জনু রবিন খুদা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই ঘোষণা দেন।
ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় ২ লাখ কোটি রুপি ( প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার) ব্যায়ে সিরাজগঞ্জের ছেলে রবিন খুদা মেগা হাব গড়ে তুলছেন। ইতিমধ্যে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কাজ মুম্বাই ভিত্তিক Laumina CloudInfra এর সাথে অধিগ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।ভারতে ৫ গিগাওয়াট সক্ষমতা সম্পন্ন এই মেগা হাব তৈরি হলে ভারত ও রবিন খুদা এই প্রকল্প থেকেই ১০০ বিলিয়নের চেয়ে বেশি আয় করবেন।এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে পৃথিবীর টেক জায়ান্ট আমাজন , গুগল ও মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠান ভারতে বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশের ছেলে হয়েও দেশে রবিন খুদা এই বিনিয়োগ না করে প্রমাণ করেছেন , বাংলাদেশে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ নেই।
যেখানে রবিন খুদা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন না , সেখানে গুগল , মাইক্রোসফট ও আমাজনের মত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে কোন দুঃখে ।
রবিন খুদা এই বিনিয়োগ ভারতে না করে বাংলাদেশে করলে বাংলাদেশে অবকাঠামোগত বিপ্লব হয়ে যেতো। যেখানে   বাংলাদেশের মেট্রো রেল , এলিভেটেড ও পদ্মা সেতু কিছুই নিরাপদ নয় , সেখানে একটু উনিশ – বিশ হলে বয়কট ধুয়া তুলে  ৩০ বিলিয়ন ডলারের মেগা হাব তাযে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলবে না র কোন গ্যারান্টি আছে?
ইউনূসের মত রাষ্ট্রপ্রধান যেখানে মাত্র ১-২ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের জন্য জাপানের মত দেশের কাছে গিয়ে হাত পেতেছেন , সেখানে হাত না পেতেই নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে সেই সুবিধা আদায় করে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার।
বাংলাদেশ সরকার বিদেশি ক্লাউড ব্যবহার করার জন্য প্রতি বছর বিদেশী কোম্পানিগুলোকে কয়েক মিলিয়ন ডলার দেয়। সেখানে আমাদের ঘরের ছেলেই বাংলাদেশের মধ্যে বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করেনি। এই দেশে পৃথিবীর কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বিনিয়োগ করাকে এখন নিরাপদ মনে করে না। এজন্য ইউনূস ক্ষমতা দখলের পর থেকে তারেক রহমানের সরকার পর্যন্ত বাংলাদেশের মধ্যে ৬২ শতাংশ বিনিয়োগ কমে গেছে।দেশে যেভাবে হত্যা , ধর্ষণ ও অপরাজনীতি সহ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে জেল ও হত্যা চলছে তাতে এই বিনিয়োগ আরো কমবে। যেই দেশের মানুষ টাকা দিয়ে হামের টিকা না কেনায়  এবং যার জন্য হামে ৬০০ নিরাপরাধ শিশু মারা যায় , যেই দেশের মানুষ নিজের দেশের সরকারী সম্পদ আন্দোলনের নামে ভাংচুর করে,  সেই দেশে রবিন খুদা শুধু নয় , কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষই কোন বিনিয়োগ করবে না।
অনেকেরই প্রশ্ন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একজন উদ্যোক্তা কেন ভারতে এত বড় বিনিয়োগ করলেন, বাংলাদেশে কেন নয়?
এই প্রশ্নের উত্তর মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থ, সুবিধা ও বাস্তবতার মধ্যে নিহিত। এয়ারট্রাঙ্কের ব্যবসা হচ্ছে বৃহৎ আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনা। এ ধরনের ব্যবসার জন্য বিশাল বাজার, বিপুল বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া, বৃহৎ ক্লাউড গ্রাহকভিত্তি এবং AI নির্ভর প্রযুক্তি খাতের বিস্তার দরকার। ভারতের ১৫০ কোটি মানুষের বাজার, দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতি, সরকারি AI উদ্যোগ এবং বিপুল বিদেশি প্রযুক্তি বিনিয়োগ এয়ারট্রাঙ্কের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুগোল, মাইক্রোসফটসহ অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও ভারতে বহু বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করেছে।
শেয়ার করুন: