জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করে কল্যাণমুখী ও উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন আরিফুল ইসলাম জিয়া
এ কে খান :
দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে একটি আদর্শিক, সাংগঠনিক ও জনকল্যাণমুখী প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও জনসেবার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমাজ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক সংগঠক ও সমাজসেবক হিসেবে আরিফুল ইসলাম জিয়া মনে করেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সামাজিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় অগ্রগতিতে পেশাজীবী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিক্ষক, অধ্যাপক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষিবিদ, প্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সক্ষমতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগালে জাতীয় উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০০৯ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল প্রতিষ্ঠা করেন মোঃ আরিফুল ইসলাম জিয়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব ও কর্মকান্ডে সংগঠনটি জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের একটি বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আরিফুল ইসলাম জিয়ার সাংগঠনিক দর্শনের অন্যতম প্রধান দিক হলো দেশের জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় করা। তিনি মনে করেন, পেশাজীবীরা কেবল নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রেই নয়, বরং সমাজ, জাতি ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁর মতে, একজন চিকিৎসক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকৌশলী অবকাঠামো উন্নয়নে, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে, আইনজীবী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়, সাংবাদিক জনমত গঠনে এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজ নিজ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশ গঠনে অবদান রাখতে পারেন। এই সম্মিলিত শক্তিকে একটি আদর্শিক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠনের আওতায় নিয়ে আসাই জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের অন্যতম মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জাতীয়তাবাদী সজল পেশাজীবীদের ঐক্যকে তিনি কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না।বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তা, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা, পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মতো জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী সকল পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী। জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিকতা ও জনসেবাকে সামনে রেখে তিনি তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দর্শনের মূলকথা হলো দেশ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি মনে করেন, রাজনীতি মানুষের জন্য এবং সংগঠন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। তাই জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি। আরিফুল ইসলাম জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল বিভিন্ন সময়ে সারা দেশে নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, দুর্যোগকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে আসছেন। আরিফুল ইসলাম জিয়া মনে করেন, একটি রাজনৈতিক বা পেশাজীবী সংগঠনের শক্তি শুধু সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই একটি সংগঠনের প্রকৃত জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। সেই বিবেচনায় জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন আরিফুল ইসলাম জিয়া। দেশের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, বন উজাড় ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এক কোটি বৃক্ষরোপণের মতো বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা তাঁর পরিবেশবান্ধব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্বশীল চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম জিয়া বলেন, বিগত সরকারগুলোর সময়ে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাঁর সরকারের মেয়াদকালেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, নদী ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে এ প্রকল্পের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা অববাহিকার মানুষ পানির সংকট, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছেন। ফলে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ঘোষণা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণাকে দেশ ও জাতির জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম জিয়া। তিনি মনে করেন, তিস্তা ব্যরেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আরিফুল ইসলাম জিয়ার নেতৃত্বের মূল দর্শন হলো জাতীয়তাবাদী চেতনা, দেশপ্রেম, সৎ নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা, মানবিকতা ও জনসেবার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সমাজ গঠন ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তিনি বিশ্বাস করেন, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীরা যদি নিজেদের পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগান, তাহলে জাতীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। এজন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত করে সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। একজন সংগঠক হিসেবে আরিফুল ইসলাম জিয়া জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের বৃহত্তর ঐক্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য দেশের সকল জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীকে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করে মানবিক, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয়তাবাদী চেতনা, স্বদেশপ্রেম, গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ ও জনসেবাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম জিয়া।
