এ কে খান :
বগুড়া, ৩০ জুলাই ২০২৫ : “কোনো ব্যবসাই ছোট নয়, আমি গুড়ার ব্যবসাও করেছি” এই উক্তিটি ছিল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক অধ্যাপিকা ডক্টর হোসনে-আরা বেগম প্রতিষ্ঠিত দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক এবং বর্তমান প্রজন্মের তরুণ উদ্যোক্তাদের অহংকার, টিএমএসএস পরিচালিত বিসিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিএম আলী হায়দারের। বগুড়ার টিএমএসএস পরিচালিত ফাইভ স্টার হোটেল মমইন স্কাইভিউয়ের সপ্তম তলায় টিএমএসএসের শিক্ষা সেক্টরের আওতাধীন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অধ্যক্ষদের সমন্বয় সভায় তিনি উপযুক্ত কথাগুলি বলেন। টিএমএসএসের শিক্ষা উন্নয়ন বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ৩০ জুলাই এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টিএমএসএসের শিক্ষা উন্নয়ন কর্তৃক সমন্বয় সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে তিনি নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষা উদ্যোক্তা এবং নতুন করে শিক্ষকদের ভাবতে শেখালেন। টিএম আলী হায়দার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী অনেক কাজকে ‘ছোট’ বা ‘তুচ্ছ’ হিসেবে দেখা হয়। এই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি নিজের জীবনের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এমনকি তিনিও একসময় ‘গুড়ার ব্যবসা’ করেছেন, যা সমাজের চোখে হয়তো খুব বড় কোনো ব্যবসা বলে বিবেচিত হয় না। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, যেকোনো কাজই সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক মানসিকতা দিয়ে করলে তা সফল হতে পারে এবং বড় কিছু করার ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সফলতার জন্য প্রয়োজন সঠিক মানসিকতা এবং কাজের প্রতি অটুট বিশ্বাস। ছোট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন পূরণে অবিচল থাকাটাই আসল। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সকল শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষক এবং যারা নতুন নতুন শিক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করার কথা ভাবছেন, তারা টিএম আলী হায়দারের কথায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাঁর সহজ-সরল কিন্তু গভীর অর্থবহ বার্তা প্রমাণ করে আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমই একজন শিক্ষা উদ্যোক্তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। টিএমএসএস ও বিসিএল গ্রুপের মতো দুটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থেকেও টিএম আলী হায়দারের এই বিনয়ী এবং বাস্তব সম্মত বক্তব্য এটাই প্রমাণ করে, সফলতার চূড়ায় পৌঁছানোর পরও নিজের অতীতকে ভুলে না গিয়ে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ক যেকোন কাজে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা সম্ভব। তাঁর এই বার্তা শুধু শিক্ষকদের জন্যই নয়, বরং সমাজের শিক্ষাসহ প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। তিনি মনে করিয়ে দেন, কোনো কাজকেই ছোট না দেখে নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করাই আসল সাফল্য। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের এক অনন্য মিশেল লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত শিক্ষক মন্ডলীদের উদ্দ্যেশে তিনি আরও নানা দিক নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মোছাঃ গুলনাহার পারভীন, টিএমএসএসের উপনির্বাহী পরিচালক-২ রোটারিয়ান ডাঃ মোঃ মতিউর রহমান, টিএমএসএসের সেক্টর প্রধান উপনির্বাহী পরিচালক-৩ মোঃ সোহরাব খান, বিসিএল গ্রুপের এএমডি উপনির্বাহী পরিচালক সারওয়ার মোহাম্মদ বাবু ও মোছাঃ শাহাজাদী বেগম প্রমূখ বক্তব্য দেন। সভায় টিএমএসএস পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের রোটারিয়ান মোঃ মজিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার কামাল, অধ্যক্ষ ডক্টর আহমেদ শরীফ, পরামর্শ শিক্ষা উন্নয়ন খন্দকার গোলাম মোস্তফা, অধ্যক্ষ মোঃ ইসমাইল হোসেন, অধ্যক্ষ মোঃ রিহান ইসলাম, প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন, অধ্যক্ষ মাসুদ রানাসহ সংস্থা পরিচালিত ৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও টিএমএসএসের উর্ধ্বতন কর্মকর্ত, সহকারী পরিচালক মোঃ মুমিনুল ইসলাম, নিবাহাী পরিচালকের একান্ত সচিব সাবিক মোঃ ফেরদৌস রহমান, একান্ত সচিব প্রশাসন মোঃ আঃ হান্নান সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এই সমন্বয় সভাটি কেবল একটি নিয়মিত কর্মশালাই ছিল না, বরং এটি ছিল নবীন ও প্রবীণ অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক সুবর্ণ সুযোগ। টিএম আলী হায়দারের বক্তব্য উপস্থিত সকল শিক্ষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও কর্মপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে টিএমএসএসের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাদের শিক্ষা বিষয়ক নানা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর এই অনুপ্রেরণা মূলক বার্তা দেশের তরুণ শিক্ষা উদ্যোক্তা এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আত্মবিশ্বাসী হতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিক্ষা ডোমেইন প্রধান, মোঃ সাজ্জাদুল বারী সুমন।
