যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমেই কী কী করবেন? ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যদি ঠিক থাকে তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর হলো, তিনি স্বাস্থ্যসেবা নীতি ও শিল্পনীতি এবং বাণিজ্যচুক্তিগুলো বাতিল করবেন। অবৈধ অভিবাসীদের তাড়াবেন। আর অবশ্যই সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু করবেন।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আট বছরের শাসনামলের যাবতীয় নীতি বাতিলের অঙ্গীকার করেই ট্রাম্প গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতেছেন। ওবামার কিছু নির্দেশ ট্রাম্প সামান্য কলমের খোঁচাতেই বাতিল করে দিতে পারেন। বাকি নীতিগুলো পাল্টাতে কয়েক মাস বা আরও বেশি সময় লাগতে পারে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা এএফপিকে বলেছেন, ট্রাম্প যতই তর্জন-গর্জন করুন না কেন—তাঁকে নিয়ম মেনে সীমারেখার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে। কারণ, কংগ্রেস এবং বিচার বিভাগের মতো প্রেসিডেন্টের দপ্তরটাও সরকারের একটি শাখামাত্র। অভিবাসন আইনজীবী (অ্যাটর্নি) ডেভিড লিওপোল্ড বলেন, ট্রাম্প চাইলেই হোয়াইট হাউসে গিয়ে প্রথম দিনে যা খুশি করতে পারবেন না। গণতন্ত্রে প্রধান নির্বাহী বা সিইও বলে কিছু থাকে না।
যতটুকু ইঙ্গিত মিলছে, তাতে বোঝা যায় ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতি বাতিল করার উদ্যোগ নেবেন। আর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি দাগি আসামিদের ফেরত পাঠাতে তৎপর হবেন। অ্যারিজোনায় গত আগস্টে তিনি বলেছিলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এমন অবৈধ অভিবাসীদের তাড়াবেন। অবশ্য লিওপোল্ড বলছেন, এমন প্রক্রিয়া ওবামা সরকারই শুরু করেছে।
মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে একটি ‘মহাপ্রাচীর’ নির্মাণের জন্য প্রথম দিনেই তহবিল সংগ্রহ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। সিরীয় শরণার্থীদের নিয়ে বর্তমান কর্মসূচিও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করে দিতে পারেন। বর্তমান প্রশাসনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি থেকেও ট্রাম্প সরে আসার উদ্যোগ শুরু করতে পারেন।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কথা ভাবছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় দুই সহযোগী তা নাকচ করে দিয়েছেন।
লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত ওই খবরে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন সহযোগী নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের ওই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
