ইরানের হুমকি: মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তে হামলা হতে পারে

শেয়ার করুন:

“সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আমাদের পাল্লার মধ্যে”—২ টন ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি তেহরানের

 ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের হামলার আওতায় পড়বে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাসিরজাদেহ বলেন, “কিছু মার্কিন প্রতিনিধি বলছেন যে, আলোচনায় ব্যর্থতা সরাসরি সংঘাতে রূপ নিতে পারে। আমি কূটনৈতিক সমাধানের আশা করি, তবে সংঘাত আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে শত্রুপক্ষকে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র তখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে পিছু হটতে বাধ্য হবে। তাদের সব সামরিক ঘাঁটি আমাদের পাল্লার মধ্যে।”

নাসিরজাদেহ জানান, ইরান সম্প্রতি ২ টন ওয়ারহেডবাহী একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা দেশের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার একটি শক্ত প্রতীক। তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো রকম সীমাবদ্ধতা মেনে নেব না এবং এই বিষয়ে কারো সঙ্গে আলোচনার অধিকার নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি:
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১,০০০ সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে, যেখানে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব ও সিরিয়াতে।

পারমাণবিক আলোচনা:
মে ২৩ তারিখে রোমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাঈদি জানান, কিছু অগ্রগতি হলেও তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ষষ্ঠ দফার আলোচনা আগামী ১৫ জুন মাসকাটে অনুষ্ঠিত হবে।দুবাই, ১১ জুন (TASS)

শেয়ার করুন: