ক্যানসার—শব্দটা শুনলেই যেন বুকটা কেঁপে ওঠে। আর তা যদি হয় অবুঝ শিশুদের, তবে তা মেনে নেওয়া আরও কঠিন। শিশুদের এই মরণঘাতী রোগ নিরাময়ের পথ খুঁজতেই সুদূর আয়ারল্যান্ডে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন একজন বাংলাদেশি তরুণী—ড. ইফ্ফি হক।
বর্তমানে তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ‘ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন’-এ পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় হলো ‘ক্লিয়ার সেল সারকোমা অফ কিডনি’ (CCSK)—যা শিশুদের এক বিশেষ ধরণের জটিল কিডনি ক্যানসার। জিনের মিউটেশন বা পরিবর্তনের কারণে কীভাবে এই রোগটি শরীরে বাসা বাঁধে এবং মলিকুলার ও বায়োকেমিক্যাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে এর রহস্য ভেদ করা যায়, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই লড়ছেন এফি হক।
তার এই সাফল্যের শুরুটা কিন্তু একদিনে হয়নি। পোলিশ একাডেমি অফ সায়েন্স থেকে লিভার ক্যানসারের ওপর পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন তিনি। সেখানে তিনি ‘জিনোম এডিটিং’ বা ডিএনএ সম্পাদনার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে দারুণ দক্ষতা অর্জন করেন। শুধু তাই নয়, তার ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ১৬টিরও বেশি গবেষণাপত্র, যা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ৭৪৩ বারের বেশি সাইটেশন (উদ্ধৃত) হয়েছে!
বিদেশের মাটিতে আলো ছড়ালেও এই মেধাবী বিজ্ঞানীর শেকড় কিন্তু বাংলাদেশেই। বগুরায় জন্ম আজিজুল কলেজে পড়াশোনা তার পর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই তরুনী একসময় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতার সাথেও যুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞানের জটিল জগতে নীরবে কাজ করে যাওয়া আমাদের এই দেশি তরুণের হাত ধরেই হয়তো একদিন শিশুদের ক্যানসার নিরাময়ে বড় কোনো যুগান্তকারী আবিষ্কার দেখবে বিশ্ব। ড. ইফ্ফি হকের এই অবিরাম পথচলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রইল শুভকামনা।
আমাদের দেশের এমন প্রতিভাবান মানুষদের গল্পগুলো বেশি বেশি ছড়িয়ে দেওয়া উচিত, যেন নতুন প্রজন্ম বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও অনুপ্রাণিত হয়।
