বগুড়ায় জনগণের অংশগ্রহণে টেকসই উন্নয়নে গাক’র নাগরিকতা কর্মসূচির সভা অনুষ্ঠিত
এ কে খান :
বগুড়া জেলার গাবতলী, সারিয়াকান্দি, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় জনগণের অংশগ্রহণে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নাগরিকতা কর্মসূচির আওতায় ৪র্থ ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ২২ জুন এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) কর্তৃক বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল নাগরিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাকের নাগরিকতা কর্মসূচির মাঠ সমন্বয়কারী মো. রাইসুল ইসলাম। সভায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা, সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন, সেবার মানোন্নয়ন ও জবাব দিহিতা বৃদ্ধি, নারী, যুবক, যুবতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে নাগরিক দলের ভূমিকা জোরদার করণ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় করা হয়। পাশাপাশি বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবেলায় আগাম সতর্কতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শিবগঞ্জ উপজেলার নাগরিক দল ও কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবকরা গত তিন মাসে পরিচালিত বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন। তারা জানান, এ সময় এলাকায় কোনো বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয়নি, যা একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এছাড়া হাম টিকাদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সড়ক সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। গাবতলী উপজেলার প্রতিনিধিরা জানান, নাগরিক দলের উদ্যোগে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে সড়ক নির্মাণ বন্ধ করে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা, বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে সহায়তা ও দরিদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।এছাড়া লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, কিশোর অপরাধ ও মাদক বিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। শাজাহানপুর উপজেলার প্রতিনিধিরা ভূমি অফিসে সেবা গ্রহণে হয়রানি, হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং পশু চিকিৎসা ও পশুখাদ্যের মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অপর দিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার নাগরিক দল সদস্যরা মাদক, কিশোর গ্যাং, স্বাস্থ্যসেবা সংকট, বন্যা ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। তারা বন্যা ও নদীভাঙন প্রবণ এলাকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার দাবি জানান। সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, কানাডার বৈদেশিক নীতি বিষয়ক সংস্থা গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ সহযোগিতায় জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ জিএমবিএইচ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’র বাস্তবায়নে এবং গ্রাম উন্নয়ন কর্ম গাক’র মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা কমিউনিটির সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমাধানের পথ অনুসন্ধান ও জনগণের সক্রিয় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
