ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২ পালিত
১.
ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ২৬ মার্চ ২০২২,শনিবার আলোচনা সভা,শপথ গ্রহণ,বৃক্ষরোপন,বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়।
২.
দিনের অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিলো সূর্যোদয়লগ্নে যথাযথ সম্মানের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ স্মারক ম্যুরালে পুষ্পস্তবক প্রদান, শেখ রাসেল দেয়ালিকায় দেয়াল পত্রিকা উন্মোচন, বৃক্ষরোপন। এছাড়াও কলেজের স্বাধীনতা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সভার শুরুতেই সকলেই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং ছড়া,কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, শিক্ষকদের ও অতিথিবৃন্দের আলোচনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ ও তাঁর সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে স্বাধীনতার শপথ গ্রহণ, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মহোদয় এবং সভাপতির বক্তৃতা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিলো দেশাত্মবোধক সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা,মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক। এছাড়াও সন্ধ্যায় আলোকসজ্জার নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন সকলেই। অধ্যক্ষ মহোদয়ের সমাপনী ঘোষণার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়।
৩.
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন,বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ৩ নম্বর সেক্টরের বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: নাজিম উদ্দীন খান, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আতিয়া খন্দকার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবর্ষ কমিটির আহ্বায়ক, কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মোহন। অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কমিটির আহ্বায়ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বজলুর রহমান রফিক।
৪.
আলোচনাকালে বক্তাগণ বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আমাদের এবং এই প্রজন্মের জন্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ পালন করা খুবই সৌভাগ্যের বিষয় বলে গৌরব বোধ করছি। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। বসন্তের আজকের এই দিন বাঙালি জাতির জীবনে চিরস্মরণীয়,অনন্যসাধারণ একটি দিন। সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় দিনটি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের সব মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলার মানুষের জনযুদ্ধ। গণমানুষের জনআকাঙ্ক্ষার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জনকে অর্থবহ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। পাক হানাদার বাহিনি ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের মানবতাবিরোধী ভূমিকাকে যেন আমরা একটুও ভুলে না যাই। পাকিস্তানী হানাদারদের প্রেতাত্মারা আজো স্বাধীন বাংলাদেশে ছদ্মবেশে সক্রিয় দেশবিরোধী অপকর্মে, তাদেরকে চিহ্নিত করে সতর্ক থাকাটাও বিশেষ জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করি।
৫.
আলোচকগণ আরো বলেন, বাংলা ও বাঙালির প্রবাদ পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাতিসত্তায় রূপান্তর করে ‘বাংলাদেশ’ নামক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার নেতৃত্বের একমাত্র কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ কারণেই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যতদিন, যতবার লেখা হবে, পড়া হবে, ততদিন, ততবার বঙ্গবন্ধু বারবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই অনন্য দুই মহান উপলক্ষ আমাদের প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশ সৃষ্টির মুহূর্ত এবং সেই সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর অনন্য ভূমিকার কথা আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। উপনিবেশ-উত্তর আমলে বাংলাদেশই একমাত্র ভূখণ্ড, যেটি নৃতাত্ত্বিক-ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। এর আগে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার কোথাও এ ধরনের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করতে পারেনি। আমাদের আরেক স্মরণীয় সাফল্য হলো মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে আমরা পাকিস্তানের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলাম। স্বাধীনতা আমাদের রক্তে কেনা অর্জন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এক জন মহামানবের জন্ম এই মাটিতে হয়েছিল বলে আমাদের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমাদের এই অর্জনকে অর্থবহ করতে হবে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। আজকের দিনে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই মহান নেতার জীবন ও আদর্শ অনুসরণে এ দেশের শিশু-কিশোরদের যথাযোগ্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আজকে আমাদের অঙ্গীকার। মুজিব জন্মশতবর্ষে আমরা যেন ভুলে না যাই- বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ, সততা, একনিষ্ঠতা, আন্তরিকতা, ন্যায়বোধ সর্বোপরি গভীর দেশপ্রেম চিরকাল বাঙালি জাতিকে পথ দেখায়, দেখাবেও যে কোন সংকটে।
আবদুল্লাহ আল মোহন
আহ্বায়ক, মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি এবং
সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ভাসানটেক সরকারি কলেজ, ঢাকা।
