বছরে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তামিম। ছবি: এএফপিএ বছর নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটার দেখা অবশেষে পেলেন তামিম ইকবাল। ডাম্বুলায় বাঁহাতি ওপেনারের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের রান ৪৩ ওভারে ৩ উইকেট ২৩৪।
কদিন আগে শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খারাপ করেছেন, এটা বলার সুযোগ নেই। তামিম, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান—রান পেয়েছেন সবাই। তবু একটা অতৃপ্তি থেকে গেছে, যেটি কাল সংবাদ সম্মেলনে বললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘টেস্টে সবাই ভালো ব্যাটিং করেছে, কিন্তু সেঞ্চুরি পেয়েছে শুধু সাকিব।’
মাশরাফির কথাটা সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য তামিমের ক্ষেত্রে। ২ টেস্টে ৫১.৭৫ গড়ে ২০৭ রান করে সিরিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। তার চেয়ে বড় কথা, পি সারা ওভালে চতুর্থ ইনিংসে ৮২ রান করে দলকে যেভাবে জিতিয়েছেন, দুর্দান্ত! শ্রীলঙ্কা সফরে দারুণ সব ইনিংস এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে, অথচ সেগুলোর একটিও তিন অঙ্ক স্পর্শ করেনি।
গত বছর দুর্দান্ত কাটানো তামিমের এ বছরটা খারাপ যাচ্ছে না। কিন্তু ‘অসাধারণ যাচ্ছে’ সেটাও বলা যাচ্ছিল না আগের ১৩ ইনিংসে একবারও সেঞ্চুরি না করতে পারায়। নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটন টেস্টে ফিফটি পেলেন। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের সঙ্গে হায়দরাবাদ টেস্টে চেনা রূপে দেখা না গেলেও এবার শ্রীলঙ্কা সফরে বাঁহাতি ওপেনারের সর্বশেষ চার ইনিংস—৫৭, ১৯, ৪৯ ও ৮২। বড় ব্যাটসম্যানের একটি বড় গুণ বলে ধরা হয় ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে। স্টিভেন স্মিথকেই দেখুন। টেস্টে ২০ ফিফটির বিপরীতে ২০ সেঞ্চুরি অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের। ভারত সফরে সেঞ্চুরির নেশা পেয়ে বসেছে স্মিথের! কিন্তু তামিম কেন পারছেন না ইনিংসটা তিন অঙ্কে নিয়ে যেতে? অবশেষে উত্তরটা তামিম খুঁজে পেয়েছেন ডাম্বুলায় এসে। সেঞ্চুরির তৃষ্ণাটা মেটাতে বাঁহাতি ওপেনার শুরুতেই এগিয়েছেন ধীর-লয়ে। প্রথম ৭ বলে রান ২। জড়তা কাটিয়েছেন লাহিরু কুমারাকে প্রথম বাউন্ডারিটা মেরে। ফিফটি করেছেন ৭৬ বলে। পরের ৫০ করতে লেগেছ ৫১ বল। যেটি তাঁর অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৭তম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয়।
ইনিংসটা সাজিয়েছেন ১২ চারে, ছয় নেই একটিও। তিন সংস্করণ মিলিয়ে প্রথম বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রান করার দিনটা দারুণভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন তামিম। এখনো অপরাজিত আছেন ১০১ রানে। সাকিব ব্যাট করছেন ৪৯-এ। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ১১৪ রানের জুটি পথ দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।
ঠিক চার বছর আগে শ্রীলঙ্কায় আগের সফরে হাম্বানটোটায় ফিফটির গোলকধাঁধা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তামিম। তিন বছরের সেঞ্চুরি-খরা ঘোচানোর ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশ হেরেছিল। আজ তামিম নিশ্চয়ই জয় দিয়েই ম্যাচটা স্মরণীয় করে চাইবেন।
