ভিজিডি-ভিজিএফ ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাত, আতাইকুলা থানায় লিখিত অভিযোগ
সংবাদদাতা :
পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লক্ষিকোল ও শ্রীকোল গ্রামের কিছু দরিদ্র ও অসহায় মহিলাদের ভিজিডি, ভিজিএফ ও ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির সমর্থক হিসেবে পরিচিত শ্রীকোল গ্রামের কেরু প্রামানিকের ছেলে মোঃ নান্নু প্রামাণিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই কার্ড দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, শ্রীকোল (লক্ষিকোল) গ্রামের মোছা. রুশনী খাতুনের কাছ থেকে গত দুই মাস আগে প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং একই গ্রামের হামেদা খাতুনের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়াও নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনের কাছ থেকে একই কৌশলে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুত ভিজিডি, ভিজিএফ কিংবা ফ্যামিলি কার্ডের কোনোটিই তারা পাননি। রুশনী খাতুনের অভিযোগ, বারবার কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে নান্নু প্রামাণিক নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। কার্ড না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একই অভিযোগ করেন হামেদা খাতুনও। তিনি বলেন, কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কার্ডের আশায় অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বিষয়টি তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাননি। উল্টো টাকা ফেরত চাইতে গেলে নান্নু প্রামাণিক ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রুশনী খাতুনের ছেলে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তিনি মোবাইল ফোনে নান্নু প্রামাণিকের কাছে মায়ের টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকেও ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে পরিবারের দাবি। স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীরা গত ৩ জুন আতাইকুলা থানায় নান্নুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এছাড়াও শ্রীকোল গ্রামের সন্ত্রাসী কায়দায় এক গৃহবধূর তিনটি আঙ্গুল কেটে ফেলার অপরাধে নান্নু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে আতাইকুলা থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নান্নু প্রামাণিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় গাঁজা ও মাদকদ্রব্য সেবন এবং বিক্রির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার একশ্রেণির যুবক মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে এ বিষয়ে ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. নান্নু প্রামাণিকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় মহল মনে করছেন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নামে দরিদ্র মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন কোনো দালাল চক্রের খপ্পরে না পড়েন, এলাকাবাসী সে ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
