পাবনায় গাকের উদ্যোগে ২১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন

শেয়ার করুন:

পাবনায় গাকের উদ্যোগে ২১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন

এ কে খান, পাবনা ব্যুরো :

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধন,  বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করণ ও ঝরে পড়ার হার কমিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার ন্যায় পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)। বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আর্থিক এবং  কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থী নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। জানা গেছে, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে বেড়া উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। বর্তমানে বেড়া উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ২১ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করছে। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত মানসম্পন্ন ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম গাক’র মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের ১২টি উপজেলার ১ হাজার ৫৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯১ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করছে। ফলে দেশের প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি উন্নয়নে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানরা এ কর্মসূচি থেকে সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। বেড়া উপজেলার কয়েকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষুধামুক্ত পরিবেশে পাঠ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তাদের শেখার সক্ষমতাও উন্নত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত অবস্থারও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও  জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর সহকারী পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিন সরদার বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। শিশুদের সুস্থ ও মেধাবী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, পুষ্টি ও মানবিক উন্নয়নমূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।শিক্ষার্থী অভিভাবকরা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য সন্তানদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি তাদের সেই চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে শিশুরা যেমন পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে, তেমনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার উৎসাহও বাড়ছে। এলাকাবাসী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গাকের সফল এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে এবং পাবনা জেলার অন্যান্য উপজেলাসহ দেশের আরও বিস্তৃত অঞ্চলে বাস্তবায়িত হবে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন: