আহমেদাবাদ, ১২ জুন: আজ দুপুরে আহমেদাবাদ শহরের উপর দিয়ে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনার শিকার হয় । বিমানটিতে মোট ২৪৪ জন আরোহী ছিলেন—এর মধ্যে ২৩২ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু সদস্য।
স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার রানওয়ে ছেড়ে উড্ডয়ন করে। গন্তব্য ছিল যুক্তরাজ্যের লন্ডন। তবে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি কন্ট্রোল রুমের রাডার স্ক্রিন থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফ্লাইটরাডার থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি তখন মাটি থেকে মাত্র ৬২৫ ফুট উচ্চতায় ছিল এবং তখনও উচ্চতা অর্জনের চেষ্টা করছিল।
উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই আহমেদাবাদের মেঘনীনগর এলাকার একটি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি। বিকট শব্দ, তীব্র আগুন ও বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরের আকাশ হঠাৎ করেই ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়, এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে গোটা এলাকা অগ্নিগোলায় পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তবে আগুন ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থলে এখনো তীব্র আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে রয়েছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণে বিলম্ব হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো নিশ্চিত সংখ্যা জানানো না হলেও, কর্তৃপক্ষ একে “এক বৃহৎ মানবিক বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করেছে। দমকল বাহিনী ও NDRF যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আহতদের শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসছেন আতঙ্কিত স্বজনেরা, যাঁরা খুঁজছেন তাঁদের প্রিয়জনদের।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সরকারের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও অজানা, তবে উড্ডয়নের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমান ও অসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা ভারতের এভিয়েশন ইতিহাসে অন্যতম ভয়ঙ্কর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সাধারণত দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং এটি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সজ্জিত। অতীতে এ ধরনের দুর্ঘটনার নজির বিরল হলেও সম্পূর্ণ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “একটা বিকট শব্দের পর আমরা দেখি আকাশ থেকে বিশাল কিছু নিচে পড়ে জ্বলছে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।”
বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাড়ি ও রাস্তায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে জ্বালানির আগুন, এবং ধোঁয়ার ঘনত্বে ঢেকে যায় সূর্যের আলো।
