নিষিদ্ধ দল আওয়ামীলীগ পন্থী শিক্ষক, প্রশাসন ও আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির দাবি::জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল

নিষিদ্ধ দল আওয়ামীলীগ পন্থী শিক্ষক, প্রশাসন ও আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির দাবি::জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল
শেয়ার করুন:

নিষিদ্ধ দল আওয়ামীলীগ পন্থী শিক্ষক, প্রশাসন ও আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির দাবি::জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল
সরকারের প্রতি তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাল জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল

স্টাফ রিপোর্টার :

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামীলীগ পন্থী বলে অভিযোগ ওঠা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমলাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি এশিয়া পোষ্টসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক শতাধিক শিক্ষকের কথিত বিতর্কিত অবস্থানের বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বিবেক গঠনের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। শিক্ষক সমাজের নৈতিক দায়িত্ব হলো সত্য, ন্যায়, গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। কোনো শিক্ষক বা শিক্ষাবিদ ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে, যা রাষ্ট্র, আইন কিংবা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামীলীগ পন্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমলা ও প্রশাসনের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা দরকার। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামীলীগের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠা বিভিন্ন শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
আরিফুল ইসলাম জিয়া আরও বলেন, বিষয়টি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সচিবালয়, প্রশাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী বা নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের পক্ষে কাজ করেছেন এমন অভিযোগ থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা সম্পর্কেও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের কার্যক্রম নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় এনে রাষ্ট্রবিরোধী বা ষড়যন্ত্রমূলক কোনো তৎপরতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সম্ভাব্য অন্তর্ঘাত বা ষড়যন্ত্রের ঝুঁকি কমবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তথ্যভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা দরকার এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরো বলে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওমীলীগ পন্থীদের যে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে রয়েছে, তারা সরকারকে বেকায়দা ফেলতে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পক্ষে কাজ করে পলাতক ফ্যাসিবাদের মাস্টারমাইন পতিত শেখ হাসিনার মনোবল বৃদ্ধি করছে। এদের ইন্ধনে এবং কিছু কর্মকাণ্ডের জন্যই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে মুক্ত অবস্থায় শেখ হাসিনা এ দেশের নানা অপকর্ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পায়তারা করছে। এদের বিরুদ্ধে এখনই গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি করেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল। সকল বিবৃতির শেষাংশে আরিফুল ইসলাম জিয়া দেশের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকদের দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। আরিফুল ইসলাম জিয়া বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।

শেয়ার করুন: