সূর্য আছে, সদিচ্ছাও আছে—এবার কি ফুরাবে সৌরবিদ্যুতের ব্যর্থতার গল্প?
ছাদে ছাদে সোলার প্যানেলের স্বপ্ন: ঘোষণার ঝলক পেরিয়ে বাস্তবায়নের কঠিন পথ
সরদার জিয়া উদ্দিন | উন্নয়নকর্মী ও গবেষক
গত ৩ ও ৪ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে। জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে নিজেই গ্রিডের বিদ্যুৎ ছেড়ে সৌরবিদ্যুতে চলে গেছেন। সরকারের ঘোষণা—আগামী গ্রীষ্মের আগেই তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট এবং পাঁচ বছরে দশ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ। রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে সৌরশক্তির পক্ষে এমন জোরালো রাজনৈতিক বার্তা এ দেশে আগে খুব কমই দেখা গেছে। কিন্তু যাঁরা দুই যুগ ধরে মাঠপর্যায়ে উন্নয়নের কাজ দেখেছেন, তাঁদের মনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন ঘুরপাক খায়: এমন উচ্চাভিলাষী ঘোষণা আমরা কি আগেও শুনিনি? এবার কি সত্যিই ভিন্ন কিছু হবে?
ব্যর্থতার দীর্ঘ খতিয়ান: বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ইতিহাস মূলত লক্ষ্য ঘোষণা আর লক্ষ্য হারানোর ইতিহাস। ২০০৮ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে বলা হয়েছিল ২০১৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ আসবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। দুটি লক্ষ্যই অধরা থেকে গেছে। প্রায় দুই দশক পর আজও দেশের মোট সক্ষমতায় সৌরবিদ্যুতের অংশ মাত্র ৫ শতাংশের মতো—প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ মেগাওয়াট। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের চিত্র আরও হতাশাজনক। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সতেরো বছরে সারা দেশে রুফটপ সোলার বসেছে মাত্র আড়াইশ মেগাওয়াটের মতো। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট রুফটপ সোলারের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল—যা শুরু থেকেই বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল।

আমার মতো যাঁরা ক্ষুদ্রঋণ খাতে কাজ করেছেন, তাঁদের কাছে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ইডকলের সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) কর্মসূচি। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখের বেশি সিস্টেম বসানো হয়েছিল, আলো পৌঁছেছিল প্রায় দুই কোটি মানুষের ঘরে। বিশ্বজুড়ে একে ‘রোল মডেল’ বলা হতো। কিন্তু সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি। পরিকল্পনাহীনভাবে একই এলাকায় গ্রিড সম্প্রসারণ, টিআর-কাবিখার আওতায় বিনা মূল্যে সোলার প্যানেল বিতরণ, বাজারে নিম্নমানের প্যানেল ও ব্যাটারির অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবার অভাব—সব মিলিয়ে গ্রাহকেরা কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেন। মাঠপর্যায়ের সহযোগী সংস্থাগুলো খেলাপি ঋণের বোঝায় ডুবে যায়; শেষ পর্যন্ত ইডকলকে শত শত কোটি টাকার ঋণ মওকুফের পথে হাঁটতে হয়। একটি সফল মডেল ধ্বংস হলো মূলত সরকারেরই এক দপ্তরের সঙ্গে আরেক দপ্তরের সমন্বয়হীনতায়।
বড় প্রকল্পেও ছিল অনিয়ম। টিআইবির গবেষণা বলছে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত ছয়টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে গড় ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি টাকার বেশি, যেখানে মানদণ্ড ৮ কোটি; বাড়তি ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। কৃষিজমিকে অকৃষি দেখিয়ে জমির দাম বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ খাতে আসা প্রায় তিন হাজার কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগের ৯৬ শতাংশের বেশি গেছে জীবাশ্ম জ্বালানিতে।

আবার নীতির অস্থিরতাও কম ক্ষতি করেনি। প্রতিযোগিতাহীনভাবে অনুমোদিত হওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার ৩১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে, যার সঙ্গে জড়িত ছিল প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ-প্রতিশ্রুতি। সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা যা-ই হোক, এর পর নতুন বিনিয়োগ কার্যত থমকে যায়; জমি কিনে ফেলা উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েন, উন্নয়ন-সহযোগীরাও উদ্বেগ জানান।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে নিছক আরেকটি ঘোষণা বলে উড়িয়ে দেওয়া অন্যায় হবে। এবার নীতি, আইন ও আর্থিক প্রণোদনা একসঙ্গে সাজানোর চেষ্টা দৃশ্যমান: প্রশাসনিক জট কমাতে জারি হয়েছে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ ২০২৬; সংসদের আগামী অধিবেশনে সৌরবিদ্যুৎ আইন পাসের কথা বলা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬–২০৩০, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। দশ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ছাদভিত্তিক, সাড়ে চার হাজার ভূমিভিত্তিক এবং বাকিটা ভাসমান সোলার, অ্যাগ্রিভোলটেইক্স, বায়ু ও বর্জ্য থেকে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও যন্ত্রাংশে আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রক শুল্ক ও অগ্রিম কর ২০৩১ সাল পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে; ব্যাটারি স্টোরেজও ছাড়ের আওতায় এসেছে। ১ শতাংশ সুদে কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ, আর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রুফটপ সোলার বসালে গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সায় কিনবে। প্রায় ৪৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদে সোলার, সংসদ ভবন ও জেলা পরিষদের ছাদে গ্রিড-সংযুক্ত প্রকল্প, সরকারি জমিতে পিপিপি কাঠামো, আর রামপালে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজসহ ৪৪২ মেগাওয়াটের দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পাঁচ বছরের মধ্যে সেচের ডিজেলচালিত পাম্পের জায়গায় সৌরপাম্প দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। নবায়নযোগ্য প্রকল্পে পেমেন্ট গ্যারান্টি পুনর্বহাল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত দৃষ্টিভঙ্গিতে—সৌরবিদ্যুৎকে এখন আর ‘পরিবেশবান্ধব বাড়তি উদ্যোগ’ হিসেবে নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জগুলো কোথায়: যে দেশ সতেরো বছরে আড়াইশ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার বসাতে পেরেছে, সে দেশ কয়েক মাসে তিন-চার হাজার মেগাওয়াট যোগ করবে—এ হিসাব মেলানো কঠিন। অবাস্তব লক্ষ্য শুধু ব্যর্থতাই ডেকে আনে না, তড়িঘড়ির চাপে মান ও স্বচ্ছতার সঙ্গেও আপস করায়। আর লক্ষ্য ব্যর্থ হলে জনমনে গোটা উদ্যোগের প্রতিই অনাস্থা জন্মায়। সৌরবিদ্যুৎ আসে দিনে, অথচ আমাদের চাহিদার চূড়া সন্ধ্যায়। হাজার হাজার ছাদ থেকে বিদ্যুৎ গ্রিডে ঢুকলে বিতরণ লাইন, ট্রান্সফরমার ও সাবস্টেশন তা সামলাতে পারবে কি না, সে প্রস্তুতি এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যাটারি স্টোরেজ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যাকালীন সংকট মেটাতে পারবে না। ঘনবসতিপূর্ণ এই বদ্বীপে বড় সোলার পার্কের জন্য জমি মানেই কৃষিজমির সঙ্গে প্রতিযোগিতা। খাদ্যনিরাপত্তা আর জ্বালানিনিরাপত্তার মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে সামাজিক প্রতিরোধও আসবে। মান নিয়ন্ত্রণ ও বিক্রয়-পরবর্তী সেবা-এসএইচএসের পতনের অন্যতম কারণ ছিল নিম্নমানের ব্যাটারি ও প্যানেল এবং মেরামতের ব্যবস্থা না থাকা। শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগে বাজার যদি সস্তা, মানহীন পণ্যে ভরে যায়, তবে দুই-তিন বছর পর বিকল প্যানেলই হবে এই কর্মসূচির প্রতীক। দক্ষ টেকনিশিয়ানের ঘাটতিও এখানে বড় বাধা।
অন্যদিকে ১০ টাকা ১৫ পয়সায় বিদ্যুৎ কেনার প্রতিশ্রুতি আকর্ষণীয়, কিন্তু ইতিমধ্যে লোকসানে থাকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বিতরণ কোম্পানিগুলো দীর্ঘ মেয়াদে নিয়মিত ও সময়মতো এই অর্থ পরিশোধ করতে পারবে কি না, সে নিশ্চয়তা জরুরি। বিল বকেয়া পড়লে উৎসাহ উবে যেতে সময় লাগবে না। বিনিয়োগকারী সবচেয়ে বেশি ভয় পান হঠাৎ নীতি বদলকে। সরকার বদলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল বা শুল্কহার পুনর্নির্ধারণের ইতিহাস এ খাতে আছে। পাশাপাশি টিআইবির তুলে ধরা অতিরিক্ত ব্যয় ও ক্রয়প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা বন্ধ না হলে সৌরবিদ্যুতও আরেকটি ‘রেন্ট-সিকিং’ খাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্রেডাকে বছরের পর বছর জনবল ও ক্ষমতাহীন রাখার প্রবণতাও এই দুর্বলতার অংশ। রুফটপ সোলারের প্রণোদনার সুফল যদি মূলত শহরের বাড়িওয়ালা ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানই পান, আর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক, চরাঞ্চলের পরিবার বা নিম্ন আয়ের ভাড়াটিয়ারা বাইরে থেকে যান, তবে জ্বালানি রূপান্তর বৈষম্য বাড়াবে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত ব্যাটারি ও প্যানেলের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নীতিও এখনো অনুপস্থিত।
চ্যালেঞ্জের তালিকা দীর্ঘ হলেও সম্ভাবনার পাল্লা ভারী। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুতের তাত্ত্বিক সম্ভাবনা ৫০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। প্রযুক্তির দাম দ্রুত কমছে; সাম্প্রতিক দরপত্রে প্রতি ইউনিটের দাম প্রায় ৮ মার্কিন সেন্টে নেমেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কম। প্রতিবেশী ভারত মাত্র এক বছরে জাতীয় গ্রিডে কয়েক দশ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করেছে—অর্থাৎ সঠিক নীতি ও বাস্তবায়ন থাকলে দ্রুত অগ্রগতি অসম্ভব নয়। সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে আমদানি করা এলএনজি ও জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, বিদ্যুৎ খাতের বিপুল ভর্তুকি কমবে—বিদ্যুৎ সচিব নিজেও সে সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ডিজেলচালিত সেচপাম্পের জায়গায় সৌরপাম্প এলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে। দেশে প্যানেল সংযোজন, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে তৈরি হতে পারে হাজারো তরুণের কর্মসংস্থান। পোশাকশিল্প যেমন একসময় অর্থনীতির চেহারা বদলে দিয়েছিল, সৌরশিল্প নিয়েও তেমন স্বপ্ন দেখছেন জ্বালানিমন্ত্রী—স্বপ্নটি অমূলক নয়, যদি ভিত মজবুত হয়।
আর আছে আমাদের নিজস্ব শক্তি: দেশজুড়ে বিস্তৃত ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন সংস্থার নেটওয়ার্ক। এসএইচএস কর্মসূচির সাফল্যের ভিত্তিই ছিল এই নেটওয়ার্ক, যারা গ্রামের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে পেরেছিল। সেই অভিজ্ঞতা—ভালো ও মন্দ দুটোই—কাজে লাগালে সৌরপাম্প, ছোট দোকান বা গ্রামীণ উদ্যোক্তার ছাদে সোলার পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। চরাঞ্চলের পতিত জমি, জলাশয়ে ভাসমান সোলার এবং কৃষির সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয় (অ্যাগ্রিভোলটেইক্স) জমিসংকটের সৃজনশীল সমাধান হতে পারে।
এবারের উদ্যোগকে টেকসই করতে কয়েকটি বিষয়ে এখনই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন: কত মেগাওয়াট ঘোষণা হলো তা নয়, কত মেগাওয়াট গ্রিডে যুক্ত হয়ে আসলে বিদ্যুৎ দিচ্ছে—তা জেলাভিত্তিকভাবে প্রতি মাসে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। আমদানি করা প্রতিটি প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মান সনদ বাধ্যতামূলক করতে হবে; সরবরাহকারীর জন্য ন্যূনতম বিক্রয়-পরবর্তী সেবার দায় নির্ধারণ করতে হবে। বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন ও ব্যাটারি স্টোরেজ পরিকল্পনা সৌর লক্ষ্যের সঙ্গে একই সূচিতে চলতে হবে। প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ আইনে ক্রয়মূল্য ও চুক্তির সুরক্ষা এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে সরকার বদলালেও বিনিয়োগকারী ও সাধারণ গ্রাহক আস্থা না হারান। এ বিষয়ে সংসদে সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা জরুরি। পিকেএসএফ ও তার সহযোগী সংস্থা, ইডকল এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌরপাম্প ও ক্ষুদ্র রুফটপ সোলারের অর্থায়ন ও সেবায় যুক্ত করতে হবে—তবে এসএইচএসের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, যাতে একই এলাকায় বিনা মূল্যের বিতরণ বা পরিকল্পনাহীন গ্রিড সম্প্রসারণ ঋণনির্ভর কর্মসূচিকে ধ্বংস না করে। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে সোলার টেকনিশিয়ান তৈরির বিশেষ কোর্স এবং ব্যবহৃত ব্যাটারি-প্যানেলের পুনর্চক্রায়ন নীতি এখনই চালু করতে হবে।
বাংলাদেশে সূর্যের অভাব নেই, সম্ভাবনারও অভাব নেই; অভাব ছিল ধারাবাহিকতা, সমন্বয় আর জবাবদিহির। প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাসভবন অফ-গ্রিড হয়ে যাওয়া প্রতীকী অর্থে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সফলতার আসল মাপকাঠি হবে চরাঞ্চলের কোনো কৃষকের সৌরপাম্প পাঁচ বছর পরও সচল আছে কি না, কিংবা কোনো স্কুলের ছাদের প্যানেল থেকে আসা বিদ্যুতের দাম সময়মতো পরিশোধ হচ্ছে কি না। ঘোষণার উচ্ছ্বাস যত দ্রুত মিলিয়ে যায়, বাস্তবায়নের ধৈর্য তত দীর্ঘ হতে হয়। এবার যেন সৌরবিদ্যুতের গল্পটা আরেকটি অসমাপ্ত ফাইলে বন্দী না হয়—সেটাই প্রত্যাশা।
লেখক: উন্নয়নকর্মী ও গবেষক; প্রায় আড়াই দশক ধরে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতে যুক্ত।
