টিএমএসএস : দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত
এ কে খান :
ভূমিকা-:
বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে টিএমএসএস একটি সুপরিচিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। দরিদ্রতা বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, ক্ষুদ্রঋণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ডক্টর হোসনে-আরা বেগম মানব কল্যাণমূলক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে টিএমএসএস আজ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। টিএমএসএস প্রতিষ্ঠার পটভূমি : টিএমএসএস প্রতিষ্ঠিত হয় মূলত দরিদ্র ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে। উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এই সংস্থা কার্যক্রম শুরু করে। ধীরে ধীরে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়। বর্তমানে টিএমএসএস দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, আইটি, শিল্প ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষ ভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে টিএমএসএস’র অবদান :
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থান টিএমএসএস’র অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হলো ক্ষুদ্রঋণ প্রদান। গ্রামীণ দরিদ্র নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আত্ম কর্সংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এই ঋণের মাধ্যমে মানুষ ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করছে, গবাদিপশু পালন করছে, কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করছে, হস্তশিল্প ও কুটির শিল্প গড়ে তুলছে, দোকান ও ক্ষুদ্র কারখানা পরিচালনা করছে, ফলে লাখো মানুষ বেকারত্ব থেকে মুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। টিএমএসএস মেডিকেল কলেজে’র ভূমিকা : টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল উত্তরাঞ্চল’র স্বাস্থ্যসেবায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। এই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’র মাধ্যমে ডাক্তার, নার্স মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ল্যাবসহকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মীসহ হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষা খাতে টিএমএসএস’র অবদান : টিএমএসএস বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নার্সিং ইনস্টিটিউট, আইটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদ’র জন্য বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা হচ্ছে। নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন টিএমএসএস নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশিক্ষণ, কৃষি ও পশুপালন প্রশিক্ষণ, আইটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর ফলে বহু নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে ও পরিবারে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে টিএমএসএস একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন টিএমএসএস কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, বীজ, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, কৃষি ভিত্তিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে টিএমএসএস : টিএমএসএস বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিত একটি উন্নয়ন সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। সংস্থাটির কার্যক্রমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো-মানবকল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন, নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, দক্ষতা উন্নয়ন, এসব কার্যক্রমের কারণে টিএমএসএস দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগমের নেতৃত্ব বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের এক অনুকরণীয় উদাহরণ। তাঁর নেতৃত্বে টিএমএসএস শুধু একটি এনজিও নয়, বরং একটি বৃহৎ মানবিক উন্নয়ন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন “মানুষকে দান নয়, কর্মের সুযোগ দিতে হবে।”এই দর্শনের ভিত্তিতেই টিএমএসএস লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্ম নির্ভরশীলতার পথ তৈরি করেছে। দেশের অর্থনীতিতে টিএমএসএস’র প্রভাব : টিএমএসএস’র কার্যক্রম দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যেমন- বেকারত্ব হ্রাস, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন,স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, শিক্ষার প্রসার, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এসব কার্যক্রম টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
উপসংহার : টিএমএসএস আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল নাম। অধ্যাপিকা ডক্টর হোসনে আরা বেগম’র দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে হাজার, হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ’র উন্নয়ন ইতিহাসে টিএমএসএস একটি অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
