কাজিরহাট ফেরিঘাটে মোবাইল কোর্ট অভিযান: অনিয়মে জরিমানা

কাজিরহাট ফেরিঘাটে মোবাইল কোর্ট অভিযান: অনিয়মে জরিমানা, যাত্রীদের সচেতনতার অভাব স্পষ্ট
শেয়ার করুন:

কাজিরহাট ফেরিঘাটে মোবাইল কোর্ট অভিযান: অনিয়মে জরিমানা, যাত্রীদের সচেতনতার অভাব স্পষ্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ মার্চ ২০২৬

আজ ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)  কাজিরহাট ফেরিঘাট এলাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করেন। অভিযানে সহায়তাকারী বাহিনী হিসেবে উপস্থিত ছিল আমিনপুর থানা পুলিশ, কাজিরহাট নৌপুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর।

🔎 অভিযানের মূল লক্ষ্য

অভিযানের সময় বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ
  • স্পীডবোটের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ
  • সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ
  • নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ (লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার)

⚠️ স্পীডবোটে চরম ঝুঁকি

তেল সংকটের কারণে ঘাটে স্পীডবোট চলাচল সরকারিভাবে বন্ধ থাকলেও, অসাধু উপায়ে কিছু স্পীডবোট অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে চলাচল করছে।

একটি স্পীডবোটে দেখা যায়:

  • নির্ধারিত ১২ জনের জায়গায় ১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৩ শিশু
  • অধিকাংশ যাত্রীর গায়ে লাইফ জ্যাকেট নেই
  • যাত্রীরা ভাড়া সম্পর্কেও অজ্ঞ

মোবাইল কোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে স্পীডবোট চালককে জরিমানা করে এবং যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে নামিয়ে ও লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

🚢 লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণে অভিযান

যদিও ঘাটে পর্যাপ্ত লঞ্চ চলাচল করছে (প্রতি ১০ মিনিটে একটি), তবুও যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভিড় করছে, এমনকি ছাদে উঠতেও দ্বিধা করছে না।

মোবাইল কোর্ট:

  • ১২টি লঞ্চে সরাসরি যাত্রী গণনা করে অতিরিক্ত বোঝাই ঠেকায়
  • একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চ মাঝ নদী থেকে ফিরিয়ে এনে জরিমানা করে

তবুও দেখা যায়, অনেক যাত্রী একই ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চে উঠতে আগ্রহী।

🚫 ট্রলার ও ফেরিঘাটে বিশৃঙ্খলা

ট্রলার ঘাটে যাত্রী পরিবহনকে অনিরাপদ ঘোষণা করে পুলিশ যাত্রী সরিয়ে দিলেও, অনেকে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করতে চান।

এদিকে:

  • ফেরিঘাটের পন্টুনে অবৈধভাবে খাবার বিক্রেতাদের সরানো হয়
  • ট্রলার আটকাতে গেলে মাঝিরা পালানোর চেষ্টা করে
  • নৌপুলিশের স্পীডবোট বিকল থাকায় অভিযান পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে

🚕 সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ

সকাল থেকে সিএন্ডবি এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ৩০টির মতো সিএনজিকে নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করা হয়। কাজিরহাট এলাকাতেও একই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

🗣️ ম্যাজিস্ট্রেটের বার্তা

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন:

“প্রশাসন সর্বদা কাজ করছে, কিন্তু একজন ম্যাজিস্ট্রেট সব জায়গায় একসাথে থাকতে পারেন না। যাত্রীদের নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” তথ্য সত্রঃ অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে

শেয়ার করুন: