ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সাথে ড.হোসনে-আরা বেগম’র সৌজন্য সাক্ষাৎ : এরুলিয়া বিমানবন্দর চালুর দাবি।
এ কে খান :
ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিক্ষাবিদ, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক, দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ডক্টর হোসনে-আরা বেগম। ঢাকায় মন্ত্রীর সভা কক্ষে ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সৌজন্য সাক্ষাতে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যম আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় বলা হয় বাংলাদেশের কৃষি সমৃদ্ধ শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রস্থল বগুড়া জেলায় ১৯৯৫ সালে পূর্ণাঙ্গ যাত্রীবাহী ও কার্গোবাহী বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বগুড়া শহরের অদূরে এরুলিয়া বিমানবন্দর নির্মাণ করা হয়েছে।এ বিমান বন্দরটি চালু হলেও দীর্ঘ তিন দশকেও এটি সচল না হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে হতাশ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিগত ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক সরকারের পট পরিবর্তনের ফলে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরটি যাত্রীবাহী ও মালবাহী উভয় ধরনের কার্যক্রমের জন্য চালু করা হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিজাত দ্রব্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কপথে দূরদূরান্তে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যয়, সময়ক্ষেপণ ও পণ্যের গুণগতমান নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে বগুড়া-কেন্দ্রিক বৃহৎ জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরটি চালুর দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়াও বর্তমানে এ অঞ্চলের মানুষকে আকাশ পথে ভ্রমণের জন্য প্রায় দেড়শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সৈয়দপুর বিমানবন্দর অথবা রাজশাহী বিমানবন্দরে গিয়ে বিমানে যাত্রা করতে হয়, যা সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য দ্রুত আকাশপথে পরিবহনের সুযোগ না থাকায় কৃষি অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অধ্যাপিকা ডক্টর হোসনে-আরা বেগম তার আলোচনায় উক্ত বিষয়েগুলি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জননেত্রী আফরোজা খানম রিতাকে অবহিত করলে, মাননীয় মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বঞ্চিত বগুড়া অঞ্চলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি জানান, বগুড়ার এরুলিয়া বিমানবন্দরকে কার্যকরভাবে চালু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বিমানবন্দর বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট জমির মালিকসহ স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম মাননীয় মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ও উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য টিএমএসএস ফাউন্ডেশন অফিসসহ উত্তরাঞ্চল ভ্রমণের আহ্বান জানান। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় কোন এক বিশেষ সময়ে বগুড়ার টিএমএসএস ও উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, এরুলিয়া বিমান বন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বগুড়া ও আশপাশের জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাননীয় মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালকের একান্ত সচিব সার্বিক মোঃ ফেরদৌস রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সাথে ড.হোসনে-আরা বেগম’র সৌজন্য সাক্ষাৎ : এরুলিয়া বিমানবন্দর চালুর দাবি।
