জাপানে ব্যাপক জনপ্রিয় ও দেশটির জাতীয় খেলা নাম সুমো কুস্তি। ঐতিহাসিক এ খেলার উৎপত্তি সম্পক জানতে হলে ফিরে যেতে হবে প্রায় দুহাজার বছর পূর্বে।
তবে এ খেলার নিয়মের চেয়ে বরং খেলোয়াড়দের খাবারের তালিকা নিয়ে সবার মধ্যেই একটা চাপা কৌতূহল কাজ করে। সাধারণত সব সুমো কুস্তিগীরদের ওজন ২৫০ কিলোগ্রাম থেকে ৪০০ কিলোগ্রামের কাছাকাছি। তবে এ ওজন অর্জন করার পথটা কিন্তু খুব একটা সহজ নয়। প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয় তাঁদের। এমনকি খেতে হয় নির্দিষ্ট কিছু খাবারও।
প্রত্যকদিন একজন সুমো পালোয়ান সাধারণ মানুষের থেকে আট থেকে দশ গুণ বেশি খাবার খেয়ে থাকেন। প্রত্যেক সকালে সুমো পালোয়ানরা কোন কিছু মুখে না দিয়েই অনুশীলন করা শুরু করেন। যার ফলে হজম শক্তি বেড়ে যায়। আর খেতে পারেন ভারী মধ্যাহ্নভোজ। সুমো পালোয়ানদের সবচেয়ে পছন্দের খাবার হচ্ছে বিশেষ ধরনের স্ট্যু। স্থানীয় ভাষায় যার নাম, চাঙ্কো নাবে। নাবের অর্থ পাত্র বা বাটি। যদিও তাঁদের হাতে বানানো যে কোনও খাবারকেই চাঙ্কো বলা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিশেষ ধরণের চাঙ্কোই খাচ্ছে তারা। যার মধ্যে থাকে সবজি, মাছ, টোফু, ক্যালরি সমৃদ্ধ মোাচি, স্টার্চের তৈরি কেক ও মাংস । চাঙ্কো নাবে-তে যে মোচি ব্যবহার করা হয় তা আসলে স্টার্চের তৈরি কেক। দেখতে দেশলাই বাক্সের মাপের একটি মোচি, এক বাটি ভাতের ক্যালরি প্রদান করে। আর সুমো কুস্তিগীররা মোটামুটি ছয় থেকে সাতটি মোচি এক বাটি চাঙ্কো নাবে-তে দিয়েই খান। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ধরনের রেসিপি রয়েছে চাঙ্কো নাবের ক্ষেত্রে।
গড়ে প্রত্যেকদিন মোটামুটি ২০ হাজার ক্যালরি প্রয়োজন হয় একজন সুমো পালোয়নের। যেখানে একজন সাধারণ নাগরিকের (পুরুষ) ক্ষেত্রে প্রয়োজন মাত্র ২ হাজার ক্যালরি। দুপুরের খাবারের পর সুমো পালোয়ানদের ক্ষেত্রে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমের দরকার হয়।
প্রশিক্ষণ পর্বের সময় নিজেদের খাবার নিজেদেরই তৈরি করা শিখতে হয়। খাবারে কতটা নুন বা কোন সস দিলে তাতে ক্যালরি বেশি হবে, কোন স্যুপ আরও বেশি খিদে বাড়াবে এসব জানতে হয়। রাতেও একইরকম ভারী খাবার খান সুমো কুস্তিগীররা।পর্ক, চিকেন বা বিফ থাকবেই তাতে। খেয়েই ঘুম। পরদিন আবার ভোরে উঠে একই রুটিন মেনে চলা।
প্রতিটি ক্লাবের ঐতিহ্য অথবা নিয়ম নীতি ভিন্ন। আর সেই অনুযায়ী খাবারদাবার সামান্য বদলও হয়। সাধারণত ১৫-১৬ বছর থেকে কিশোরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয় এ খেলার জন্য।
