ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে সমঝোতা ফসলে ভরবে জমি

শেয়ার করুন:

ফলে আশপাশের সাতটি উপজেলায় সেচের জন্য কোন পানি পাওয়া যায়না এবং শুষ্ক মৌসুমে পুরো অঞ্চলটিতে কোন কৃষি কাজ করা যায়না। সেচের পানির অভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় ওই পুরো অঞ্চলে কৃষি জমি পুরোপুরি ফসলশূন্য হয়ে যায়। ওই অঞ্চলে মাটির নিচেও পানির স্তর অনেক নিচে। ফলে পানি না পাওয়ায় আমন ধান চাষ ব্যাহত হয়।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ আরও বলেন, প্রায় ৬ বছর আগে পাম্প হাউস ও খালের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে খালের অনেকাংশে ক্ষতি হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে বাঁধ অপসারণ ও পাম্প হাউস চালু করা যাবে। তাতে আগামী শুকনো মৌসুমেই এলাকাবাসী উপকৃত হবেন।

জকিগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলছেন, রহিমপুর খাল দিয়ে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রত্যাহার করার মাধ্যমে শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জকিগঞ্জের পাশাপাশি, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে। খালের ভাটিতে থাকা হাওড়াঞ্চলেও বোরো চাষাবাদ সম্ভব হবে।

তারা বলছেন, রহিমপুর খাল ও সংযুক্ত অন্যান্য খালের পাড়ের জমি অত্যন্ত উর্বর। শুকনো মৌসুমে সেচ সঙ্কটে এসব জমিতে রবিশস্য ফলানো সম্ভব হয় না। রবিশস্য না হওয়ায় উপজেলার শীতকালীন সবজি চাহিদা মেটাতে নির্ভর করতে হয় অন্য এলাকার ওপর।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি যৌথ নদী রয়েছে। এই নদীগুলোর পানিবণ্টন দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু। এরমধ্যে কেবল ১৯৯৬ সালে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছে। বাকি নদীগুলো নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। এসব আলোচনায় চুক্তির অগ্রাধিকারের তালিকায় ছিল তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি। ২০১০ সালে এটি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আপত্তির কারণে এখনও সেই চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়টিই বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই সাতটি ‘এমওইউ’ বা সমঝোতাপত্র সেখানে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কুশিয়ারা নদীর রহিমপুর পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশকে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করতে দিতে ভারতের রাজি হওয়া। দিল্লীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে এভাবে বর্ণনা করে বলেছে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির পর ভারত এই প্রথম বাংলাদেশের সঙ্গে কোন অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগিতে রাজি হলো।

শেয়ার করুন: