
দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা অর্ধকোটির বেশি। তবে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে প্রতিবন্ধীরাও নিজেদের অধিকার রক্ষায় সচেতন হবে এবং যোগ দেবে উৎপাদনশীল কাজে। এখন সহায়তার পাশাপাশি দরকার সামাজিক সচেতনতা। তাই মাশুন্দিয়া ভবানীপুর কে.জে.বি ডিগ্রী কলেজে প্রতিবন্ধী বিষয়ে আলোচনা করেন। এতে কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র/ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন এই প্রতিবন্ধী দেশের জন্য বোঝা নয়। তারা দেশের সম্পদ যাতে তাদের কাজে লাগাতে পারি। তাদের কে অবহেলা করা উচিত নয়। তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে। যাতে তারা দেশের সম্পদ হয়ে দাড়ায়। তাদের কে শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা সুযোগ সুবিধা পায়। সেই লক্ষ্যে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতে পারি সেই দিকে সবার দৃষ্টি দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রতিবন্ধীর জীবনে বঞ্চনা ও বিচ্ছিন্নতা একটি পর্যায়ক্রমিক ধারা সৃষ্টি করে। প্রায় সব অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীতে এমনকি সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অবহেলা করা হয়। তাদের প্রতি অসম দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ প্রবল।
রবিবার (২ এপ্রিল) পালিত হবে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।
গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান সায়মা হোসেন ২০১২ সালে জাতিসংঘে অটিস্টিক শিশু ও তার পরিবারের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তার পরিবারের জন্য আর্থ-সামাজিক সহায়তা শীর্ষক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যা সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবন্ধী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে প্রান্তিক ও বঞ্চনার শিকার প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে না।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত গণমাধ্যমকে বলেন, অটিজম সম্পর্কে এখনও দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে অটিস্টিক শিশুদের ব্যবহারের কারণে পাগল বলা হয়।
এমনকি ভুল চিকিৎসা করে অনেক শিশুকে অকালে মেরে ফেলা হয়। অটিস্টিক শিশুরা বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে খুব দক্ষ হয়। তাই এদের প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত না করে বিশেষ শিশু বলা উচিত।
