প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীকে হুমকি!

শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার মাছখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অসদাচরণের ভিত্তিহীন লিখিত অভিযোগ আনেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি।

যথাসময়ে ওই লিখিত অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তদন্তে শতভাগ দোষী প্রমাণিত না হলেও স্থানীয়দের তদ্বিরে অফিসিয়ালভাবে গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আইয়ুব আলীর বদলীর আদেশ জারী করেন। তবে তার বদলী আদেশে সুনির্দিষ্ট কোন তারিখ উল্লেখ না থাকায় প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী বিভাগীয় দপ্তর বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক উক্ত বিদ্যালয়ে নিয়মিত স্কুল পরিচালনা করে আসছেন। 

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক হার্ট ব্লকেজের রোগী এবং ৬ মাস পরে অবসরগ্রহণ করবেন। ফলে বাড়ির পাশে অবস্থিত পূর্বের কর্মস্থল থেকে বদলী হয়ে চরাঞ্চলে গিয়ে যোগদান করলে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বেন মর্মে- বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে আপিল করে পূর্বের কর্মস্থলে বহাল থাকেন। এতে সভাপতির অসৎ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করান। এ ঘটনার পরে প্রধান আইয়ুব আলী তার আইনজীবী ছেলের মাধ্যমে সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিতে গেলে সভাপতি তার উপর ক্ষিপ্ত হন এবং সভাপতির ভাই রুবেল, তার সহযোগী হাসান ও শরিফুলসহ ৪-৫ জন গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাছখালী স্কুলে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তসলিম শেখ ও আমিনুল মোল্লা জানান, সভাপতির বিরুদ্ধে কোন মামলামোকদ্দমা হলে আইয়ুব মাস্টার ও তার ছেলে ডিএম সাইফুল ইসলামকে দেখে নেয়া হবে বলা তারা ঘোষণা দেন। এ ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী অসুস্থ বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। 

আইয়ুব আলীর ছেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডিএম সাইফুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে জানান, সভাপতির ইন্ধনে তার ভাইসহ আরও কিছু সন্ত্রাস আমার বাবা ও আমাকে যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে, তার একাধিক প্রমাণ আমার হাতে ইতোমধ্যে এসেছে। স্বাক্ষীদের ও প্রমাণাদি সময়মতো আদালতে হাজীর করা হবে। আমি আইনের মানুষ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমি আইনের মাধ্যমেই এসব মোকাবিলা করতে চাই।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমানের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন: