পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি : মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন:

পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি : মির্জা ফখরুল

বিশেষ প্রতিনিধি :

ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৫ : পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জনগণের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠলেই কেবল এই বৃহৎ প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখবে। রবিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে ‘পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি’। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রায় আট কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ সাতবার সম্ভাব্যতা যাচাই হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে সৃষ্ট সমস্যাকে কেবল ফরিদপুর বা নির্দিষ্ট কোনো এলাকার সমস্যা না বলে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বিএনপি মহাসচিব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় মানুষ সেখান থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, যা একটি গুরুতর সমস্যা। তিনি নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দাবি নিয়ে সামনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের এই বিষয়ে কাজ করতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং জনগণের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন জড়িত থাকায় বিএনপি এই অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে অত্যন্ত সচেতন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো কঠিন কাজই সম্ভব এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ দাবিই পরবর্তী সরকারগুলোকে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য করবে। তিনি বলেন, “আমি দেশের মানুষের পালস বুঝি। দেশের মানুষ উন্নতি চায়, একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়। আর এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই সমস্ত সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।” বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিষয়টি প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে স্থান পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এটিকে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান, যাতে এটি একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়। তিনি আরও প্রত্যাশা করেন যে, আগামী সরকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বহুমাত্রিক কাজের জন্য একটি মধ্যম মেয়াদী পরিকল্পনা করবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রকল্পটি অর্থায়নের জন্য সংযুক্ত হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের প্রয়োজন এবং যুগোপযোগী রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের ব্যাপারে তারা অত্যন্ত সচেতন। সেমিনারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া ‘ফারাক্কা ব্যারেজ ও বাংলাদেশের সংকট পদ্মা ব্যারেজ ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এছাড়া, প্রকৌশলী শহিদুল ইমাম ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর আবশ্যকতা’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উত্তরায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বিমানের পাইলট তৌকির ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবু ওহার মো. হাফিজুল হক। পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি’র সভাপতি সাবেক সাংসদ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান, সাবেক প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি’র জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর হোসেন খান জালাল বক্তব্য দেন। এছাড়াও, সেমিনারে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আক্তারুজ্জামান আখতার, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পাবনা চেম্বারের পরিচালক এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সাবেক ভিপি নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা, জাসাস পাবনা জেলা শাখার সভাপতি খালেদ হোসেন পরাগ, বেড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইস উদ্দিন, পাবনা মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল আহসান খান রেওন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাহবুবা রহমান কাজলসহ পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক মালিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে আরিচা কাজিরহাট এবং আরিচা দৌলতদিয়া ওয়াই টাইপ সেতুসহ সাত দফা প্রস্তাবনা সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

শেয়ার করুন: