ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজে বিজয় দিবস পালিত

শেয়ার করুন:

যথাযথ মর্যাদায় ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিনের শুরুতে সূর্যোদয়লগ্নে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ ম্যূরালে পুষ্পস্তবক প্রদানের পর বেলা ১০টায় কলেজ মিলনায়তনে আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন বিষয়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন, বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আতিয়া খন্দকার, সভাপতিত্ত্ব করেন বিজয় দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাহিলা হাশেম। আলোচনা অনুষ্ঠানে তারা ছাড়াও শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ অংশ নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করার গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম, অর্জন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই সার্থক হবে মহান বিজয় দিবসের সব আনুষ্ঠানিকতা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষণে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন বলেন, বাঙালির হাজার বছরের জীবন কাঁপানো ইতিহাস মহান স্বাধীনতা। বাংলাদেশের অভ্যুদয় বিশ্ব ইতিহাসে গৌরব দীপ্ত অধ্যায়। একাত্তরে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির আত্মত্যাগ, প্রাণ বিসর্জন, মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর মর্মন্তুদ বেদনায় ভরপুর। দীর্ঘ নয় মাস বাঙালি স্বদেশে, রণাঙ্গনে ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। বহুজনের বিবিধ বিসর্জন শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় পতাকা ওড়ে,বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানি দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বাঙালির জাতির বিজয় অর্জনের মহিমান্বিত দিন ১৬ ডিসেম্বর। যা আমাদের বাঙালির জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। বাঙালি জাতির লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা। দীর্ঘ ২৩ বছর রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন এ বিজয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আলোচকগণ বলেন,আমাদের দুর্ভাগ্য মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যখন গৌরব ছড়িয়ে দেব, তখন রাজনৈতিক লাভালাভের জন্য আমাদেরই কোনো কোনো পক্ষ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বারবার কুয়াশার চাদরে ঢাকতে চেয়েছে। কিন্তু সূর্যকে তো আটকে রাখা যায় না। তাই সত্য সামনে চলে আসেই। এ কারণেই নতুন প্রজন্মকে বারবার ফিরিয়ে আনতে হয় ইতিহাসের কাছে। স্বাধীনতার নির্মোহ ইতিহাস যারা বিশ্বাস করেন না, তারা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। এই স্বাধীনতা বিরোধীদের স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো সাংবিধানিক অধিকার থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, মেধা-মনন, সাহস ও সত্যনিষ্ঠায় নিজেকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে সার্থক হবে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মদান আর অগণিত মানুষের অবর্ণনীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা।

আবদুল্লাহ আল মোহন
সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ভাসানটেক সরকারি কলেজ, ঢাকা
১৬.১২.২০২২

শেয়ার করুন: