এবারও স্পিনারদের সিরিজ?

শেয়ার করুন:

গত দুই বছর বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ ছিল মূলত পেস-নির্ভর। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজে দেখা গেছে ভিন্ন ছবি
মিরপুরে কাল একই ফ্রেমে ধরা পড়লেন মোশাররফ হোসেন ও সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণটা থাকবে এই দুই বাঁহাতির হাতেই— l শামসুল হকমিরপুরে কাল একই ফ্রেমে ধরা পড়লেন মোশাররফ হোসেন ও সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণটা থাকবে এই দুই বাঁহাতির হাতেই— l শামসুল হকউইকেটের পাশ দিয়ে হেঁটে ইনডোরের দিকে যাচ্ছিলেন মোশাররফ হোসেন। তবে উইকেট দেখার সুযোগ পেলেন না। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মাঝ উইকেট তখন কাভারে ঢাকা।

গত দুই বছর বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ ছিল মূলত পেস-নির্ভর। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজে দেখা গেছে ভিন্ন ছবি। পেসার নয়, সিরিজজুড়েই ছিল স্পিনারদের দাপট। সব ম্যাচেই অসাধারণ বোলিং করেছেন সাকিব আল হাসান, নিয়েছেন ৬ উইকেট। আট বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোশাররফ হোসেনও শেষ ম্যাচে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে স্মরণীয় করেছেন প্রত্যাবর্তন ম্যাচটাকে। ৩ উইকেট নিয়ে তরুণ মোসাদ্দেক হোসেনও দেখিয়েছেন অফ স্পিনে নিজের ধার।

উইকেট পাওয়ার দিক দিয়ে পেসার-স্পিনাররা অবশ্য সমান অবস্থানে। পুরো সিরিজে পেসাররা নিয়েছেন ১৩টি উইকেট, সমানসংখ্যক উইকেট স্পিনারদেরও। তবে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আফগানদের চাপে রাখার আসল কাজটা স্পিনাররাই করেছেন। গড়ে ওভার-প্রতি ৪-এর বেশি রান তাঁরা দিয়েছেন খুব কম ওভারেই। সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে এনে দিয়েছেন ব্রেক-থ্রুও।

আফগানিস্তানের পর কাল থেকে শুরু ইংল্যান্ড সিরিজটাও কি স্পিনারদেরই হবে? মোশাররফ অবশ্য এখনো পরিষ্কার কিছু বলতে পারছেন না। ‘শেষ পর্যন্ত স্পোর্টিং উইকেটই হবে বোধ হয়। ব্যাটসম্যান-বোলার সবারই সমান সুযোগ থাকবে। তবে উইকেট যেমনই হোক, স্পিনারদের ভালো বোলিং করতে হবে,’ বলছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার।

ফতুল্লায় বিসিবি একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করতে পারেননি ইংল্যান্ড দলের দুই স্পিনার মঈন আলী ও আদিল রশিদ। তবে আসন্ন সিরিজে স্পিনাররা যে উইকেট থেকে সহায়তা পাবেন, এই ব্যাপারে বেশ আশাবাদী মঈন। কাল টিম হোটেলে ইংল্যান্ডের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নেটের চেয়ে মিরপুরের উইকেট ভিন্ন হবে। সেখানে বল কিছুটা ঘুরবে।’

মঈনের কথা শুনে চোখ চকচক করে উঠতে পারে ইংলিশ লেগ স্পিনার আদিল রশিদের। প্রস্তুতি ম্যাচে অনুজ্জ্বল থাকলেও তাঁকে অনুপ্রাণিত করতে পারে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগান লেগি রশিদ খানের সাফল্য। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছে বেশ দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছিল তাঁর বল। সেটা জেনেই হয়তো আদিলকে নিয়ে মঈনের আশাবাদ, ‘কাল (পরশু) ওর মাংসপেশিতে কিছুটা টান পড়েছিল। গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট হয়েছে। তবে এখন সে জানে কী ধরনের বল তাকে করতে হবে।’

আফগান লেগ স্পিনার রশিদের বলে বেশ ভুগেছেন সাব্বির রহমান। তিন ম্যাচে দুবার আউট হয়েছেন তাঁর বলেই। তবে সাব্বির আত্মবিশ্বাসী, আদিলকে খেলতে খুব একটা সমস্যা হবে না তাঁদের, ‘যেহেতু একজন কঠিন লেগ স্পিনারকে খেলেছি, আশা করি ইংল্যান্ডের লেগ স্পিন খেলতেও সমস্যা হবে না। মনে হয় না রশিদ (আদিল) এতটা কঠিন হবে।’

ইংলিশ স্পিনাররা যদি বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে থাকেন, প্রস্তুত বাংলাদেশের স্পিনাররাও। ইংল্যান্ডের অনেক ব্যাটসম্যানেরই বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও তাঁদের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্পিনাররা সাফল্য পাবেন বলে বিশ্বাস সাব্বিরের, ‘ইংল্যান্ড দলে অনেক ভালো ব্যাটসম্যান আছে। তাদের অনেকেই বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছে। তারা জানে স্পিন কীভাবে খেলতে হয়, এখানকার উইকেট কেমন আচরণ করে। তবুও আশা করছি স্পিন আক্রমণে সফল হতে পারলে আমাদের জন্য কাজটা অত কঠিন হবে না।’

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজটা কি তাহলে স্পিনারদের সিরিজই হয়ে দাঁড়াচ্ছে? বাংলাদেশের স্পিনার বনাম ইংল্যান্ডের স্পিনার!

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *