পাবনায় শিক্ষার্থীদের ‘ভিখারী’ বলায় অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
পাবনা ব্যুরে :
পাবনা ইমাম গাযযালী স্কুল এন্ড কলেজে বেতন ও পরীক্ষার ফি বৃদ্ধি, অধ্যক্ষের অসদাচরণ, সরকারি প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণির সরকারি বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বেতন গ্রহণ, তাদের স্কুলের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা ও তার ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবীতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বুধবার দুপুরে পাবনা পৌর সভার অনন্ত বাজার এলাকায় ঈমাম গাজ্জালী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষা, প্রতিষ্ঠানটির সামনে ঢাকা-পাবনা সড়কে এ কর্মসূচী পালন করা হয়।
বিক্ষুদ্ধ একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, যে কোন ছুতো দিয়ে বেতন বাড়ানো, পরীক্ষার ফি বাড়ানো, নানা অনুষ্ঠানের নামে অযাচিত চাঁদা আদায়, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। একমাত্র সাদা ড্রেস পড়তে বাধ্য করা হয়। আমরা কি বিধবা যে সব সময় সব পোষাক সাদা পড়তে হবে। আমাদের কি স্বাদ আহ্লাদ নেই এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেতন ও পরীক্ষার ফি কমানোর জন্য অধ্যক্ষ মেডামকে বলার সাথে সাথে তিনি আমাদের সাথে চরম দূর্বব্যহার করেন। এমন কি আমরা ভিখারী। আমাদের পরিবার অভিভাবকরা ভিখারী বলে বকা দেন৷ এমন কথা আমরা মানতে পারিনা। তাই তার পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ করছি। আমাদের যৌক্তিক দাবী মানতে হবে। তাদের অভিযোগ, ইমাম গাযযালী স্কুল এন্ড কলেজটি একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠান কোটি টাকা আদায় করছে। তারপর সরকার তাদের বেতন দেয়। এতো কিছুর পরেও কেন আমাদের উপর জোর জুলুম করা হয়৷ বিক্ষোভ চলাকালে একাধিক অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানার উগ্র মেজাজ, একক কর্তৃত্ব আর বদমেজাজের কথা জেনে আসছি। কিন্তু আজ যখন মেয়েদের ভিখারী বলেছে, আমাদের ভিখারী বলেছে তখন এটা মেনে নেয়া যায় না৷ আমরা তার ঔদ্ধর্তপূর্ন আচরনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখার স্বার্থে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবী করছি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিখারী বলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কেন তারা বিক্ষোভ করছে তা জানিনা। তাদের কোন দাবী দাওয়া থাকলে আমাকে বলুক। আমি কর্তৃপক্ষের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।
পাবনা সদর থানার (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে ক্যাম্পাসে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
