শেখ রাসেল দিবস পালন

শেয়ার করুন:

শেখ রাসেল দিবস পালন


১.
যথাযথ আনুষ্ঠানিকতায় অক্টোবর ১৮ মঙ্গলবার ঢাকার ভাসানটেক সরকারী কলেজে শেখ রাসেল দিবস পালিত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দিবসটি উদযাপনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেই সাথে শিক্ষার্থীরা শেখ রাসেল দেয়ালিকায় কবিতা, সৃষ্টিশীল লেখা ও ছবি এঁকে প্রতিষ্ঠানের শেখ রাসেল দেয়ালিকায় উপস্থাপন করে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দশটি গাছের চারা রোপন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কারও বিতরণ করা হয়। ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাসানটেক সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন, বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আতিয়া খন্দকার এবং সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ রুমান খান। তারা ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
২.
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তাগণ বলেন, শেখ রাসেল জাতীয় দিবস ২০২২-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক,দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক’- এই শব্দগুলোর মধ্য দিয়ে শেখ রাসেলকে আমরা স্মরণ করতে চাই। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে একটি নির্মল শৈশব-কৈশোর এবং একটি নির্ভীক প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। শেখ রাসেল ছিলেন অতিথিপরায়ণ, বন্ধুবৎসল ও প্রাণচাঞ্চল্য ভরপুর একজন শিশু। শেখ রাসেল দিবসে সারা বাংলাদেশের সকল শিশু-কিশোর-কিশোরীদের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ রাসেলের নির্মলতা, তার দুরন্ত এবং নির্ভীক শৈশবের গল্প যেন আমরা পৌঁছে দিতে পারি।
৩.
আলোচনাকালে তারা বলেন,শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের কাছে এক ভালোবাসার নাম। অবহেলিত,পশ্চাৎপদ,অধিকারবঞ্চিত শিশুদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে বাংলাদেশে শেখ রাসেল এক মানবিক সত্তায় পরিণত হয়েছে। মানবিক চেতনা সম্পন্ন সকল মানুষ শেখ রাসেলের মর্মান্তিক বিয়োগ বেদনাকে হৃদয়ে ধারণ করে বাংলার প্রতিটি শিশু-কিশোর তরুণের মুখে হাসি ফোটাতে আজ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শেখ রাসেলের জন্মদিনে হারিয়ে যাওয়া এই শিশুটির নিষ্পাপ আদর্শ হোক আমাদের অনুপ্রেরণা। শেখ রাসেলের স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ুক সকল শিশুর অন্তরে।
৪.
আলোচকগণ বলেন, পৃথিবীতে যুগে যুগে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে; কিন্তু এমন নির্মম, নিষ্ঠুর এবং পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড কোথাও ঘটেনি। যেখানে এক ছোট্ট শিশুও রেহাই পায়নি। শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে আজ একজন সুনাগরিক হিসেবে দেশকে আরও উন্নতির শেখরে নিয়ে যেত। আমরা সেই সুযোগ হারিয়েছি। শিশু রাসেলকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে ঘাতকরা মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃন্যতম অপরাধ করেছে। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড শুধু রাসেলের জীবনকেই কেড়ে নেয়নি, সে সাথে ধ্বংস করেছে তাঁর সকল অবিকশিত সম্ভাবনা। শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকীতে শিশুদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু-পরিবার তথা শেখ রাসেল সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস জানানোর জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে সচেষ্টা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তাগণ বলেন, শেখ রাসেলের স্বপ্ন ছড়িয়ে পঢ়ুক হাজার শিশুর অন্তরে। শেখ রাসেলের জন্মদিনে ঐকান্তিকভাবে কামনা করা হয়,শিশুদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু-পরিবার তথা শেখ রাসেলের মানবিক গুণাবলি ও স্বপ্ন সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস যেন আমরা শেখাতে পারি, যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শন লালন করে ভবিষ্যতে দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আবদুল্লাহ আল মোহন
সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ভাসানটেক সরকারি কলেজ, ঢাকা
১৮ অক্টোবর ২০২২

শেয়ার করুন: