বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে —- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

বরিশালের বাকেরগঞ্জে টিএমএসএস’র নতুন শাখা উদ্বোধন ও ঋণ বিতরণ
শেয়ার করুন:

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে

জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে

                                           —- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

ঢাকা, ৩ কার্তিক (১৯ অক্টোবর):

            অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিগত সরকারের আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

            আজ ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI) আয়োজিত Sustainable Power and Energy: Driving Investment in Banglades শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দেশের জ্বালানি খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকারের রোডম্যাপ তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

            মন্ত্রী বলেন, সরকার সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় এবং প্রণোদনা সুবিধা প্রদান করেছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ট্যারিফের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সরকারের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়। তিনি বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সংকট নিরসনে ৩টি থেকে ৪টি নতুন এফএসআরইউ (FSRU) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন। মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাস করার সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে।

            আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এনবিআর (NBR)-কে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে, যাতে নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি দূর হয়। ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এবং ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস‘ নিশ্চিত করতে নীতিমুক্তকরণ  (De-regulation) জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, হংকং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য ডেডিকেটেড ইকুইটি ফান্ড খোলা হচ্ছে। এছাড়া ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিমার্কেট ও বন্ডে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

             আগামীতে একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাত পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে বলে মন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। তখন থেকে অর্থনীতি স্বাভাবিক গতি পাবে। এরপর একসময় অর্থনীতি দ্রুত ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

            অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শু শিয়ং, প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, শেভরন বাংলাদেশ; অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, উপাচার্য, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ; ড. নাজনীন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি); ফজলুল হক, প্রশাসক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই); এফআইসিসিআই-এর প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। 

শেয়ার করুন: