এম এ খালেক খান পিভিএম :
উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বগুড়া জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য।সারাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের চাহিদা পূরণ হয় সর্ববৃহৎ এই হাব হতে।এ খাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম গাক বাস্তবায়িত সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট এসইপি।”পরিবেশ বান্ধব টেকসই অনুশীলনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কৃষি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধি”উপ-প্রকল্পটি বিশ্ব-ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বগুড়া জেলার সদর,শাজাহানপুর ও শেরপুর উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।এ প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত সদস্যদের কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ, কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নানা প্রশিক্ষণ আয়োজন,মডেল ওয়ার্কশপ স্থাপন,প্রযুক্তি ও মান সম্পন্ন পণ্য চাহিদা পূরণে কমন সার্ভিস সেন্টার স্থাপন,শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য ক্লাস্টার ভিত্তিক টয়লেট স্থাপন, ফাউন্ড্রারী কারখানার সৃষ্ট বর্জ্য হতে ব্লক ও ব্রিকস্ নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের উন্নয়নে নানাবিধ সমস্যা,বাঁধা চিহ্নিতকরণ ও চিহ্নিত সমস্যা উত্তরণে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন ভেল্যু চেইন এ্যাক্টরদের অংশ গ্রহণে কর্মশালা আয়োজন করা হয়।বগুড়ার বনানী গাক টাওয়ার প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে বগুড়ায় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের বিভিন্ন ভেল্যু চেইন এ্যাক্টর যেমন-উৎপাদনকারী,সরবরাহকারী,খুচরা-পাইকারী বিক্রেতা,সেবা প্রদানকারী,বর্জ্য সংগ্রহকারী ও ব্যহারকারীদের অংশ গ্রহণে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ সাইফুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় ও পরিচালনায় কর্মশালার উদ্বোধন করেন গাকের কমিউনিকেশন এন্ড ডকুমেন্টেশন সমন্বয়কারী মোঃ জিয়া উদ্দিন সরদার।অনুষ্ঠানে গাকের সিনিয়র পরিচালক ডক্টর মোঃ মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল মেশিনারি মার্চেন্ট এসোসিয়েশন বামমা বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজেদুর রহমান রাজু।প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে এগিয়ে নিতে চলমান সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।বগুড়ায় উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনে গুণগত মান উন্নয়ন,আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার,দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক বাজারে প্রবেশাধিকার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের উন্নয়নে আগামীর পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করেন।একই সাথে বামমা’র পক্ষ হতে এই শিল্পের বিকাশে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, গাক মানব কল্যাণ ও সমাজিক উন্নয়নে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠান।সংস্থার নানামুখী জনকল্যাণমুখী কাজ এখন দেশব্যাপী বিস্তৃত।তাই লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গাক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অব্যহত রেখেছে যা আগামীতেও চলমান থাকবে।গাকের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসইপি প্রকল্পের পরিবেশ অফিসার মোঃ সম্রাট আলী, ডকুমেন্টেশন অফিসার মোঃ শাখাওয়াৎ হোসেন,টেকনিক্যাল অফিসার মোঃ হাসান সাদিক ও প্রকিউরমেন্ট অফিসার মোঃ মাসুদ রানা প্রমুখ।কর্মশালায় গাকের প্রকিউরমেন্ট অফিসার,সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তা,নানা শ্রেণির মানুষ,মালিক,শ্রমিক,সুবিধা ভোগী সদস্য,এজিও কর্মী,ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
