প্রসঙ্গ : ভাষার মাসে শহীদ মিনার অবমাননা ও ফেসবুকে আলোচনার ঝড়

শেয়ার করুন:

shahidminar

মাহমুদুল হাসান ঝিনুক

মহান ভাষার মাসে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় সারাদেশের শহীদ মিনারগুলো যখন সাজানো হচ্ছে, ঠিক তখন জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান ভাষা শহীদদের অবমাননা করলেন পাবনার বেড়া উপজেলার ১২ জন স্কুল শিক্ষক। তারা জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদির ওপরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন। কেএম হাবিব নামের এক শিক্ষক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিগুলি আপলোড করার পর ফেসবুকে আলোচনার ঝড় উঠে। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে উঠার নিয়ম ভেঙেছেন বলে অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। পার্শ্ববর্তী কাশীনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভনিং বডির সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন শহীদ মিনার অবমাননার বিষয়টি নিয়ে তার ফেসবুক পেজে শহীদ মিনার প্রসঙ্গে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। এর পর থেকে ফেসবুক উত্তাল হয়ে উঠে। মো. শাহাবুদ্দিনের দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
‘ফেব্র“য়ারি মাস, বাঙালির এক গৌরবের মাস, মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার মাস। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্র“য়ারি মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবীতে ঢাকার রাজপথ ছালাম, রফিক, জব্বার, বরকতের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। তাদের স্মরণে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। যে শহীদ মিনার ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালো রাত্রিতে হানাদার বাহিনীর কামানের গুলির আঘাতে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়, হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারকে টার্গেট করেছিল এই কারণে যে, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালির আন্দোলন সংগ্রামের মুল চেতনাই ছিল এই শহীদ মিনার। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর, তিনি মন্ত্রীপরিষদের প্রথম সভায়, ওই শহীদমিনার পুনঃনির্মাণের নির্দেশ দেন একই সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শহীদমিনার নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারে এবং বাঙালির গৌরবগাঁথা ইতিহাস জানতে পারে। এই জন্য যে, আমাদের ছাত্রছাত্রীরাই হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, তারাই দেবে আগামী দিনের জাতির নেতৃত্ব, তাঁদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে না পারলে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্যবোধ সৃষ্টি হবে না, আর এই কাজটি করতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। তাই এই মাসে শহীদ মিনারকে অমর্যাদা করার অর্থই হলো ভাষা শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা; অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জাতি গঠনের দায়িত্ব যাদের উপর, সেই শিক্ষকদের ফেসবুক প্রোফাইলে দেখলাম- জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে দাঁড়িয়ে। যেমন- পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়িতে অবস্থিত ‘হরিনাথপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়’ এর শিক্ষকরা জুতা পায়ে শহীদ মিনারের উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন এবং সেটা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টও করেছেন। একজন শিক্ষক কি এটা করতে পারে? ভাবতেও কষ্ট হয়! এখনো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি কতটা সূক্ষ্মভাবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে, এসবই তার প্রমাণ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার প্রার্থনা করছি। কারণ যে ভাষা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে ইউনেস্কো কতৃর্ক স্বীকৃত হয়েছে, সেই ভাষার অমর্যাদা কখনও মেনে নেয়া যায় না…’
মো. শাহাবুদ্দিনের উল্লিখিত লেখাটি পোস্টের পর থেকে শুক্রবার (১৭ ফেব্র“য়ারি) পর্যন্ত ফেসবুকে এ সংক্রান্ত ১২৮ টি মন্তব্য আসে। মন্তব্যগুলির মধ্য থেকে নির্বাচিত কয়েকটি মন্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো :
স্থানীয় কবি, গীতিকার ও নাট্যকার হুমায়ুন কবির বলেন, শহীদ মিনারের অমর্যাদার ক্ষেত্রে বলতে হয় ১৯৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ বছরগুলো স্বাধীনতার বিরোধী শক্তির হাতে বাংলাদেশ নামক ভুখণ্ডটিতে শাসিত হওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের শিকড়টা মাটির অনেক গভীরে চলে গেছে। আর তারই ফলশ্র“তিতে আমাদের দেশটা তালমাতাল অবস্থায় চলছে। প্রতিটি স্থানে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অপশক্তির অবাধ বিচরণ যার কারণ গোচরে আনা দুস্কর। অনেক ভাল ভাল লোকজনকে বলতে শুনেছি শহীদ মিনারে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানালে নাকি হিন্দুদের মত পুজা করা হয়। কিন্তু একটা কথা না বললেই নয়, পুজা-মুনাজাত এর মধ্যে আমি পার্থক্য খুঁজে পাই না। আমাদের দেশের স্বাধীনতার মুল শিকড়টা যে ঐ শহীদ মিনারে বপন করা আছে, এ বিষয়টি এখন দেশের প্রতিটি শিক্ষিত সমাজকে অনুধাবন করা উচিৎ। আজ ভাবতে অবাক লাগে স্বধীনতার ৪৫ বছর অতিক্রম হয়ে গেলো, অথচ তার পরেও মানুষ গড়ার কারিগর কতিপয় শিক্ষক জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদির উপর দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করে ভাবতে সত্যি অবাক লাগে। এরাই কি আমার সন্তানকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে? এ ব্যাপারে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এসব শিক্ষকদের দৃষ্টতার শাস্তি কামনা করছি। শহীদ মিনারের অন্তর্নিহিত ভাবটা কী- এটা যারা বুঝতে চায় না তারা বাংলাদেশ নামক ভুখণ্ডকে কোনদিন চায়নি। এখনও তারা চায় না। ধর্ম প্রতিপালনতো যেমন তেমনভাবে করা চলে তারপরও হাদিসে বর্ণিত আছে- পবিত্রতার সাথে প্রতিপালন করতে।
সংগীত শিল্পী পূজন দাস বলেন, আসলে এই বিষয়টা বোধের, ভালোবাসার; যেমন মায়ের ভালোবাসার সাথে কোন আইন চলে না তেমনই মা-মাটি-দেশকে ভালোবাসার মধ্যে কোন আইন না টেনে সত্যিকারের দেশ প্রেমটা জাগ্রত হলে দেশের সমস্ত উপাদানকেই তখন শ্রদ্ধা করতে মন চাইবে- আর শহীদ মিনার তো বাঙালির চেতনার এক উজ্জ্বল স্তম্ভ, তাই এর বেদী বা সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সেটা আবার ফেসবুকের মতো একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা কতটা দেশপ্রেম প্রমান করে- সেটা আমার থেকে গুনি শিক্ষকবৃন্দই ভালো বলতে পারবেন- তবে ঘটনাটা যেহেতু স্কুল কেন্দ্রিক, সেহেতু শিক্ষকদের আরো সচেতনতা দরকার বলে আমি মনে করি! এই দেশটাকে আমি মায়ের মতোই ভালোবাসি যেটা ভেতরে লালন করার বিষয়…।
সমাজকর্মী স্বপন খন্দকার বলেন, আমি অবাক হলাম এমন একটি কাজ করার পরে সেটা কিভাবে ফেসবুকে আপ্লোড করে দেয়া হয়েছে,আর এহেন কাজ যিনি করে থাকুক না কেন শুধু তাকে দোষ দিলে হবে না। অমার্জনীয় কাজটি তিনি একা করেন করেননি গ্র“প ছবিটি দেখে এটাই প্রতিয়মান হয়। তাই সকল দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হওয়া উচিত… আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই কাশীনাথপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের সম্মানিত সভাপতি জনাব শাহাবুদ্দিন টুটুলকে যিনি সৎ সাহস নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মানুষগুলি এলাকার অন্যায় কাজের বিরুদ্ধাচার করলে সেটা জাতীয় ইস্যু হতে বাধ্য, আজকে পত্রিকা মারফত এই নিউজটা জানার পরে এমন টাই মনে হচ্ছে…
সামচুন্নাহার সুমী নামের এক স্কুল শিক্ষিকা বলেন, প্রতিটি সু-শিক্ষিত মানুষের সময় ও পরিবেশ বিবেচনা করে যেকোন কাজ করা উচিৎ, সেক্ষেত্রে যদি সে শিক্ষক অর্থাৎ মানুষ গড়ার কারিগর হয়, তবে তাকে অধিক পরিমানে সচেতন হওয়া উচিৎ। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে ছাত্ররা শিখে থাকে, তাদের অনুসরণ করে, তাদের দেখে উজ্জীবিত হয়। তাদের এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে ছাত্ররা তাদের অশ্রদ্ধা করে। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকেও তারা যে অপরাধ করেছন, সত্যিই এটা দুঃখজনক। এটা অমার্জনীয় অপরাধ।
কবি রিঙকু অনিমিখ বলেন, ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ টাইপের কবিতা আর কখনই লেখা সম্ভব নয়, এইসব শিক্ষকরাই এর জন্য দায়ী। ইদানিং শিক্ষকরা ছাত্রদের হাতে ঠ্যাঙানি খাচ্ছে- কী এর কারণ? কারণ তাদেরই নৈতিক অবক্ষয়। সবক্ষেত্রেই ছাত্রদের দোষ নয়। এইসব শিক্ষকদের জন্য তাবদ শিক্ষকরাই অসম্মানিত হচ্ছে।
কলেজ শিক্ষক জয় প্রকাশ বলেন, শিক্ষকতাকে আজকাল অনেকে শুধুমাত্র একটি চাকুরী মনে করছে, সেইে কারণে আদর্শহীন, সচেতনতাহীন হয়ে জাতির কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রাখতে পারছে না। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের চেতনা জাগ্রহ হোক। তারা স্বদেশ প্রেমে আবার জেগে উঠুক ভাষা আন্দোলনের চেতনায়। ২১-এর প্রকৃত শিক্ষা আমাদের জীবনকে আলোকিত করুক।
মাহবুব হোসেন বলেন, শহীদ মিনারের অবমাননা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ব্যক্তির কৃত কর্মের দায় তাকেই নিতে হবে। একুশের পথ ধরেই মহান স্বাধীনতা। শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ এগুলোতে জড়িয়ে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্তের দাগ।
স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাষা না ভাসা? আমাদের মায়ের ভাষা, না আমাদের মাকে ভাসানো?Ñ এটা কি সহ্য হয়? আমদের মায়ের ভাষার সম্মানকে যদি আমরা সাগরে ভাসিয়ে দেই তবে কি আমদের জাতীয় সংস্কৃতি ও জাতিসত্ত্বার সঠিক পরিচয় থাকে? শহীদ মিনারের পাদদেশে বা বেদীতে উঠে জুতা পায়ে দিয়ে ছবি তুলে তা আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেহায়ার মতো আইডিতে চিত্রায়িত করে আমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীদেরকে বাঙালি জাতির মাতৃভাষাকে যা বর্তমানে বিশ্ববাসীর মাতৃভাষাকে ও ভাষার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিকৃতি, অবমাননা ও অস্বীকার করার সামিল বলে আমার মনে হয়। কারণ, এ অবমাননা হলো গোটা বিশ্ববাসীর। কারণ, গোটা বিশ্ববাসী তাদের এ অসভ্য আচরণ দেখে এও মনে করতে পারে যে এমন করেই হয়তো সম্মান দেখাতে হয়। এমন ভুল সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যার জন্য দায়ী এ সমস্ত হতভাগা গুরুজন। বিশ্ববাসীদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সম্পর্কে এমন বিপরীত মানসিকতা ভাব গঠন ও প্রতিষ্ঠিতও হতে পারে, যা জাতির জন্য একটা দুঃখজনক। যেমন- পাবনার নগরবাড়ী ঘাট “হরিনাথপুর এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুলের গুরুজনেরাই শুধু নয়, এর মতো অনেক একক ও অকৃতজ্ঞ জনগোষ্ঠীসহ প্রাতিষ্ঠানিক গুরুজনেরা ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নামে এমন অশ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীদেরকে সর্বত্র বিচারের কঠিন কাঠগড়ায় দাঁড় করানো জরুরী।
শামীম আহমেদ নামের একজন বলেন, কী বলবো বুঝতে পারছি না, তবুও বলি- যে দেশে মসজিদে জুতা পায়ে নামাযরত মুসল্লির উপর অত্যাচার হয়, যে দেশে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, সেই দেশের শিক্ষকদের নিকট থেকে এর থেকে ভালো কী আশা করা যায়?
ছাত্রনেতা মো. নয়ন বলেন, হায়রে শিক্ষিত জাতি এরা নাকি দেশ গড়ার কারিগর। জুতা পরে শহীদ মিনারে যারা তারা হলেন- শহীদদের অবমাননাকারী, এদের ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে হবে।
ছাত্রনেতা কাওছার হোসেন বলেন, আমি একজন সাঁথিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এর সঠিক বিচার চাই… শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর; তারাই যদি এরকম করে তাহলে আমরা কী শিখব…? ধন্যবাদ আপনাকে এটা তুলে ধরার জন্য।
অজানা গন্তব্য নামের একজন বলেন, শিক্ষক নামে যারা নিজেরাই অশিক্ষিত, জাতি তাদের কাছ থেকে কী শিখবেÑ এটাই আমার প্রশ্ন দেশের শিক্ষিত ও বিবেকবান মানুষের কাছে।
রনি হাসান বলেন, আমি একজন আমিনপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ নেতা হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এর সঠিক বিচার চাই…
আশরাফুল ইসলাম বলেন, যারা শহীদ মিনার অবমাননা করেছেন এবং অবমাননাকারীদের সমর্থন করছেন-তাদের খুব তারাতারি বিচার চাই।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোর্ট টাই পরলেই শিক্ষিত হওয়া যায় না।
মনিকা দাস বলেন, এটা মোটেই ঠিক হয়নি… এরা তো শহীদ মিনারকে রীতিমতো অপমান করেছে!
এস কে বর্মন বলেন, হায়রে! মানুষ গড়ার কারিগর…
নিপু রহমতউল্লাহ বলেন, এগুলো বোধের ব্যাপার। শিক্ষকদের কমপক্ষে এই বোধ থাকা দরকার।
মিজানুর রহমান বলেন, শহীদ মিনার অবমাননা কারীদের বিচার হওয়া উচিত।
মাহবুবুর রহমান মান্নান বলেন, যাদের দিকে জাতি তাকিয়ে থাকে… তাদের এ কী কান্ড! এদের ফাঁসি হওয়া দরকার…
রাসেল সেখ বলেন, যারা শহীদ মিনারকে এমন অবমাননা করেছেন তাদের কঠোর সাজা হওয়া উচিত।
মন্তব্যকারীদের সবাই শহীদমিনার অবমাননাকারীদের শাস্তি দাবী করলেও কাশীনাথপুর মহিলা কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রভাষক মাসুদ বিন আমিন বিপ্লব একমাত্র মন্তব্যকারী যিনি শহীদমিনার অবমাননাকারী ওই শিক্ষকদের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। ফলে তার মন্তব্যে ফেসবুক আরেকবার উত্তাল হয়ে ওঠে। মাসুদ বিন আমিন বিপ্লব তার একটি মন্তব্যে বলে ফেললেন, ‘এর আগে আমরা দেখেছি সাংবাদিক নামের কিছু কুলাংগারদের যারা জুতা পায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিত বাংলার উপরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। এদের যদি বিচার সম্পন্ন হতো তাহলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতো না।’
এ নিয়ে জেলার অধিকাংশ সাংবাদিক ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। সাংবাদিকরা এ কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একজন সাংবাদিক মন্তব্য করে বলেন, আসলে মাসুদ বিন আমিন বিপ্লব তার স্ট্যাটাসে নিজের স্বরূপই তুলে ধরেছেন। কারণ তিনি নিজেই একজন কুলাঙ্গার। তিনি কলেজে কম্পিউটার বিভাগে কোন ডিপ্লোমা করা ছাড়াই কম্পিউটার সেন্টার থেকে সার্টিফিকেট কিনে চাকরি নিয়েছেন যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। এছাড়া তিনি ওই কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ রোখসানা খানমের বোনকে বিয়ে করে চাকরি নিয়েছিলেন। তবে চাকরির পর যখন বেতন হয় (এমপিওভুক্ত) তখন তিনি ওই স্ত্রীকে তালাক দেন।
ওই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম খানের সাথে সাংবাদিকরা কথা বললে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে ফেসবুকে তার এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য লেখা মোটেও উচিত হয়নি। আমি তাকে এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছি।
পরবর্তীতে সাংবাদিকরা ওই কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মো শাহাবুদ্দিন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের গালিগালাজ করাসহ শহীদ মিনার অবমাননাকারীদের পক্ষ নিয়ে কলেজ শিক্ষক বিপ্লব নিঃসন্দেহে অপরাধ করেছেন। এ ব্যাপারে তাকে ধিক্কার জানানো হয়েছে। তার সকল অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *