প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ও কথাসাহিত্যিক ফজলুল হক মাস্টারের মৃত্যু

শেয়ার করুন:

আলাউল হোসেন : প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা, কথাসাহিত্যিক ও ছড়াকার এসএম ফজলুল হক মাস্টার আজ ২২ অক্টোবর (রোববার) বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৫১ বছরের আওয়ামীলীগের রাজনীতির উত্থান-পতনের ঝড়ঝাপটায় বিধ্বস্ত এই জননেতা বেশ কিছুদিন ধরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকার প্রায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মজীবনে তিনি বেড়া উপজেলার নাটিয়াবাড়ি ধোবাখোলা করোনেশন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
১৯৬৯ সালে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কিশোর বয়সে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে যুদ্ধ করেন তিনি। প্রতিপক্ষের অত্যাচার নির্যাতন নিরবে সহ্য করে দীর্ঘকাল সক্রিয়ভাবে দলের সাথে কাজ করেছেন। ২৬ বছর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে বিরোধী বা বিদ্রোহী কাউকে সমর্থন করেননি তিনি। ক্ষমতার লোভে বিরোধী দল বা নেতাদের সঙ্গে কখনও আঁতাত করেননি। দল ক্ষমতায় থাকলেও অবৈধ কোন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি।
বীরমুক্তিযোদ্ধা এসএম ফজলুল হক মাস্টার ২০০৭ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ১২ বছর জাতসাখিনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১৪ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বেড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত জাতসাখিনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২৬ মার্চ এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। ২৮ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশীয় প্রশিক্ষণ এবং সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের পাতিরামে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে এলাকার প্রবীণব্যক্তিদের কাছে সমাদৃত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। শিক্ষকতা ও রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চাও করতেন। তাঁর বেশকিছু বই পাঠকনন্দিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা (কলি প্রকাশনী), রূপসী গায়ের ছন্দা (কলি প্রকাশনী), তুমিই প্রিয় বান্ধবী (কলি প্রকাশনী), ছাড়ায় ছড়ায় মুক্তিসেনা (কলি প্রকাশনী), চল যাই টুঙ্গিপাড়া (ডাংগুলি প্রকাশনী), ফজলুল হকের ছড়া (ডাংগুলি প্রকাশনী)। তাঁর রচিত অধিকাংশ বই মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে উপজীব্য করে। যা বাংলা একাডেমি’র বিগত বছরগুলির বই মেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এসএম ফজলুল হক সামাজিক নানান প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন। কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যসহ বেড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং জাগ্রত সংঘ ক্লাব, কাশিনাথপুর খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি, প্রয়াস পাঠাগারে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়াও বেড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও জাতসাখিনী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল- এর দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন সময়ে।
ফজলুল হক মাস্টারের সরাসরি ছাত্র ও স্থানীয় ধোবাখোলা করোনেশন স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক নিপু রহমতুল্লাহ বিকেল ৪ টায় ফজলুল হক মাস্টারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় ধোবাখোলা করোনেশন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

শেয়ার করুন: