এ কে খান :
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৭ বছরে দেশের মানুষ ন্যায় বিচার, কথা বলার অধিকার, স্বাধীন ভাবে লেখা লেখি ও ভাব প্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। একটা বর্বর আর দুঃশাসনের মধ্য দিয়ে আমাদের দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে। সমাজে দুঃশাসন আসলে মানবিক, মূল্যবোধ, অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। মানুষ গড়ার কারিগর ‘শিক্ষক সমাজ” তাদের কথা বলার, মত প্রকাশ করার বিষয়ে শঙ্কিত, ভীত সন্ত্রস্ত ছিল।
মাদ্রাসা সুপারের বক্তব্য থেকে জানা যায় মাদ্রাসাগুলোকে অবহেলা, বৈষম্য ও সব সময় ভীতি আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হত। গত ২দশকে আমাদের যে জঞ্জাল, দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে হাহাকার, নিরব কান্না করে এসেছে। শিক্ষকদের মধ্যে আজকে প্রতিবাদের ভাষা আছে। নিরবে যারা আল্লাহ পাকের কাছে বিচার দিয়েছে, তাদের প্রার্থনা সাথে সাথে কবুল হয়ে গেছে। এক ঝাঁক তরুণের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে তাজা রক্তের বিনিময়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। একটা ভয়ের আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল সেই আবহাওয়া থেকে আমাদের তরুণরা জনতাকে সাথে নিয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা এ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুলের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট পাবনা সদর উপজেলা শাখা আয়োজিত শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সদর উপজেলা শাখার মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন ঘাতে-প্রতিঘাতে, জেল-জুলুম ও নানা যন্ত্রণায় জর্জরিত।
আল্লাহ দেশ নেত্রীকে ভালো রাখলে, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমি সারা দেশের শিক্ষকদের যে দাবি, উনি বিরোধী দলে থেকে পূরণ করতে পারেনি সেটা আদায়ের সর্বাত্মক লড়াই করবো। সংগঠন ও অনুষ্ঠানের সভাপতি আদর্শ গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওশাহিদুর রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পাবনা সদর আসনে এ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে মনোনয়ন দানের দাবি জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ন মহাসচিব আব্দুল করিম, আদর্শ গার্লস হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ খান, জাগির হোসেন একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন, সংগঠনের পাবনা জেলা আহ্বায়ক ও আহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান ও সদস্য সচিব প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আব্দুল বাতেন দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাসুম বিল্লাহ, ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার, প্রধান শিক্ষক মোঃ তায়েজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা আলী নাসির, দোগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আফসিন হোসেন, খাদিজাতুল কোবরার সহকারী শিক্ষক সেলিম আক্তার ও সাবেক ব্যাংকার জিল্লুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা প্রধান অতিথির কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দুবলিয়া ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মির্জা বখতিয়ার উদ্দিন, পাবনার সকল উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ। সন্ধা ৭টায় সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ও সম্পাদক তালেবুর রহমান প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ভাঁড়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন সেন্ট্রাল গালস স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সংগঠনের পাবনা সদর শাখার সেক্রেটারি মোঃ তালেবুর রহমান। অনুষ্ঠানে পাবনা সদর উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক,সহকারী শিক্ষক, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
