নকলায় বিএনপির অফিসে ককটেল হামলা ও ভাংচুর, দায় অস্বীকার করল পুলিশ

শেয়ার করুন:

আদমপুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও নেতাদের ছবি নষ্ট, তদন্তে পুলিশ

🟥 ঘটনার সারসংক্ষেপ লিখেছেন: শেরপুর জেলা প্রতিনিধি, প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুন ২০২৫

১১ জুন (বুধবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে শেরপুর জেলার নকলায় বিএনপির অফিসে ককটেল হামলা । নকলা উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে অন্তত পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পাশাপাশি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক হুইপ মরহুম আলহাজ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছবি ছিঁড়ে ফেলে।

🟨 স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় গ্রামে হঠাৎ একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখে বিএনপি অফিসে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ। অফিসের চেয়ার-টেবিল, ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা বলেন,

“আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি আগুনের মতো আলো জ্বলছে, পরে বুঝি অফিসে ককটেল মারা হয়েছে। এটা রাজনৈতিক শত্রুতা হতে পারে।”

🟦 বিএনপি নেতাদের অভিযোগ

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গনপদ্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিংকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম শফি।
তাদের অভিযোগ,

“এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা ভয়ভীতি ও দমন নীতির অংশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।”

তারা আরও দাবি করেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সংগঠনের পুনর্গঠন ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে আওয়ামী লীগপন্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ আক্রমণ চালিয়েছে।

🟩 পুলিশের অবস্থান

ঘটনার পরদিন ১২ জুন দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, ওসি (তদন্ত) আবুল কাশেমসহ পুলিশের একটি টিম। তবে এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন ওসি হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন,

“ঘটনাটি তদন্তাধীন। আমরা নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

🟫 পূর্বপ্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণপদ্দী ইউনিয়নে গত কয়েক মাস ধরে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত সভা, মিছিল ও কর্মসূচি পালনের কারণে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েকবার বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়।

বিশেষ করে সম্প্রতি ৩নং ওয়ার্ডে বিএনপির নতুন অফিস উদ্বোধন এবং তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের পর থেকেই চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই প্রেক্ষাপটে হামলাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

🟧 বিশ্লেষণ: নৈরাজ্যের বার্তা নাকি নিরাপত্তা ব্যর্থতা?

নির্বাচনের বছর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। গ্রামীণ পর্যায়ে এই ধরনের হামলা দেশের রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও দমন নীতির চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মো. আলী রহমান বলেন,

“যখন নির্বাচনের আগে গ্রামীণ অফিসে ককটেল হামলা হয়, সেটা নিছক সন্ত্রাস নয়—বরং একটা রাজনৈতিক বার্তা। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে এধরনের ঘটনা বাড়তে পারে।”

🟦 উপসংহার ও প্রশ্ন

নকলার এই ঘটনা শুধু একটি অফিস ভাঙচুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি গ্রামীণ রাজনীতিতে এক উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়—যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে এবং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীরাও নিরাপদ নন।

প্রশ্ন রয়ে যায়:

  • কে বা কারা এ হামলার পেছনে রয়েছে?

  • পুলিশ কি সত্যিই নিরপেক্ষ তদন্ত করবে?

  • আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে?

শেয়ার করুন: