তারেক-ইউনূস বৈঠকে আগাম নির্বাচনের ইঙ্গিত, ২০২৬ সালের রমজানের আগেই ভোটের সম্ভাবনা
লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত তারেক-ইউনূস বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, ১৩ জুন ২০২৫: বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বিচারিক অগ্রগতি অর্জন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে।তারেক-ইউনূস বৈঠকে মুল বিষয় ছিল জাতীয় নির্বাচন।
এই ঘোষণা এসেছে লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অধ্যাপক ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত একঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর। বৈঠকটি আজ শুক্রবার সকাল ৯টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১০টা (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৩টা) পর্যন্ত চলে।
বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মতামত উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, রমজানের আগেই নির্বাচন হলে সেটি দেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি ইতিমধ্যে আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন। তবে রমজানের আগেই ভোট আয়োজন করতে হলে বিচার ও রাজনৈতিক সংস্কারে বাস্তব অগ্রগতি দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক-ইউনূস বৈঠক: নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ ও সম্ভাবনার বার্তা
লন্ডনে অনুষ্ঠিত তারেক রহমান ও অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—এটি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে একটি কৌশলগত বার্তা বহন করছে। দুই নেতার আলোচনায় যে সময়সীমা উঠে এসেছে—রমজানের আগের সপ্তাহে নির্বাচন—তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সময়রেখায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করছে।
প্রধান উপদেষ্টার মুখে “সংস্কার ও বিচারের অগ্রগতি”র শর্ত সংযুক্ত করে ভোটের সময় নির্ধারণ রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত করে। এটি একদিকে সরকারি কাঠামো সংস্কারে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তি তৈরির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ সময়কে স্বাগত জানানো এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান তুলে ধরা বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রস্ততির রাজনৈতিক সংকেত। এটি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি ‘কারিগরি সমঝোতা’র সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে, যদি সংলাপ চালু রাখা যায়।
তবে, এই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর:
-
বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও সংস্কার
-
নির্বাচনী কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা
-
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের বৈঠক যদি ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে, তবে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি “নতুন নির্বাচন কাঠামো” গড়ে উঠতে পারে।
