ট্রাম্প – বিশ্বব্যাপী শংকা

শেয়ার করুন:

7acfe23a0e583d676ec2ae2abc7135e7-trump

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। ক্ষমতা গ্রহণের আগে একের পর এক টুইটার বার্তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তার অবস্থান স্পষ্ট করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার বিদেশ নীতির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই এক অনিশ্চয়তার বোধ বিশ্বকে আঁকড়ে ধরছে। হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারে এরই মধ্যে অনেকেই চটেছেন। জার্মানরা ট্রাম্পের প্রতি রাগান্বিত। চীনও ট্রাম্পের প্রতি চটেছে। এদিকে ন্যাটোর নেতারাও হতবিহ্বল। এছাড়া ট্রাম্পের বার্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও শংকিত। কেউই আসলে বুঝতে পারছে না, ট্রাম্প কোন পথে হাঁটছেন। এখন পর্যন্ত একটা মাত্র দেশ এবং তার প্রধান নেতা ছাড়া তিনি বাকি দেশগুলোর ব্যাপারে তীর্যক মন্তব্য করে যাচ্ছেন। রাশিয়া ও তার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি সমালোচনা করছেন না।

ট্রাম্প এমন একটা চরিত্র হয়ে উঠেছেন যার ব্যাপারে আগেভাগে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। ট্রাম্পের টুইটার বার্তায় এরই মধ্যে বিশ্ব অভ্যস্ত হয়ে পড়লেও তার মন্তব্যগুলো অর্থপূর্ণ কোনো নীতি, ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনা বা কোনো হুমকি প্রদান কিনা, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বোঝা যায় না। আর এ কারণেই কয়েকদিন আগে চীন এক হুশিয়ারিতে ট্রাম্পকে ‘টুইটার কূটনীতি’ বন্ধ করার আহ্বান জানায়। সোমবার যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস ও জার্মানির বিল্ড পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) জার্মানির আজ্ঞাবহ বলে বর্ণনা করেছেন।

রাসিয়ার যুদ্ধযান

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আসলে জার্মানির ইচ্ছামতোই চলছে। আর ব্রিটেনকে অনুসরণ করে ইউনিয়নের অন্য দেশগুলো ইউনিয়ন ত্যাগ করতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। দ্য টাইমসকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ১০ লাখের বেশি অভিবাসী ও শরণার্থীকে জার্মানিতে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে ‘একটা সর্বনাশা’ ভুল করেছেন।

ট্রাম্পের এ সাক্ষাৎকার ইউরোপে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ট্রাম্পের অবস্থানকে ‘নতুন কিছু নয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সোমবার বার্লিনে দেয়া এক বিবৃতিতে মার্কেল বলেন, ‘আমার অবস্থানও সবার জানা। আমি মনে করি, ইউরোপীয় হিসেবে আমাদের নিয়তি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

মার্কেলের এ জবাব এমন সময়ে এলো যখন সরকারি কর্মকর্তা ও বিশ্লষকরা ট্রাম্পের মন্তব্যগুলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে আর সেগুলোর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা ভেবে গলদ্ঘর্ম হচ্ছিলেন। এদিকে শুক্রবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চীনের দীর্ঘদিনের ‘এক চীন নীতি’র বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে চীনকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছেন ট্রাম্প। চীন মনে করে, তাইওয়ান চীনের মূল ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
চীনের ইংরেজি দৈনিক চায়না ডেইলিতে সোমবার এক উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘ট্রাম্প আগুন নিয়ে খেলছেন।’ ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিটকে যেভাবে বলেছেন, তাইওয়ানের ব্যাপারে কেউ যদি মধ্যস্থতা করতে চায়, তাহলে কঠিন জবাব দেয়া ছাড়া চীনের আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা ও ন্যাটোরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকোলাস বার্নস বলেন, ১৯৪৫ সালের পর থেকে আমরা যে উদার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি তার প্রতি এটা সরাসরি আক্রমণ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র পাশ্চত্যকে নেতৃত্ব দেবে- এমন ধারণারও বিপরীত ট্রাম্পের এ বক্তব্য। বার্নস আরও বলেন, ন্যাটো সেকেলে বলার অর্থ হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাঙনকে সমর্থন করা। আর মার্কেলের সমালোচনা করা এবং তাকে পুতিনের সঙ্গে এক কাতারে নামিয়ে আনার অর্থ হচ্ছে, আইসেন আওয়ার থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ছিলেন তাদের কৌশলগত চিন্তা এবং আমেরিকার ৭০ বছরের নীতির পরিপন্থী কথা বলা।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *